নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার প্রতিটি থানায় কে বা কারা যাতায়াত করছে, তা এবার জেলা সদরে বসেই পুলিশ কর্তারা দেখতে পাবেন। থানার গেটে দু’টি করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই ক্যামেরায় ওঠা ভিডিও ফুটেজ সরাসরি জেলা পুলিশ লাইনের কন্ট্রোল রুমে থাকা স্ক্রিনে দেখা যাবে। ফলে এবার থেকে নিজের অফিসে বসেই পুলিশ সুপার থানাগুলির উপর নজরদারি চালাতে পারবেন। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলা পুলিশের আধিকারিকরা পুলিশ লাইনের ওই ঝাঁ চকচকে কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করেন। থানার পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়েও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ওইসব ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিও পুলিশ কর্তারা এক ক্লিকেই দেখতে পাবেন। অপরাধ সংগঠিত করে পালানোর সময় যাতে সহজেই দুষ্কৃতীদের গতিবিধি নজরে আসে, তার জন্যই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, জেলাজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, বাঁকুড়ায় দিনদিন ভিন জেলার দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বাড়ছে। বিভিন্ন গ্যাংয়ের পাণ্ডা ও সদস্যরা বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, খাতড়া, সোনামুখী সহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ‘অপারেশন’ সারছে। কয়েকমাস আগে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর শহরে পুলিশ কর্মী, আইনজীবী সহ অন্যদের ল্যাপটপ, মোবাইল চুরির ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সিসি ক্যামেরায় ওঠা চোরের ছবি দেখেই পুলিশ ওই ঘটনার কিনারা করে। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের হদিশ পেতে পুলিশকে কম নাকানিচোবানি খেতে হয়নি।
খাতড়ায় সংবাদপত্র পরিবহণের গাড়িতে দুঃসাহসিক ছিনতাই, বাঁকুড়া শহরে একাধিক কেপমারির ঘটনা পুলিশকে বিড়ম্বনায় ফেলে। ওইসব ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতী গ্যাং জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরাধ সংগঠিত করার পর দুষ্কৃতীরা বাইকে বা চারচাকায় চেপে পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডে চলে যাওয়ায় পুলিশ তাদের নাগাল পায়নি। ক্যামেরায় নজরদারি বাড়ালে সংশ্লিষ্ট রুটে দ্রুত নাকা চেকিং করে পুলিশ দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে পারবে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের পাশাপাশি আন্তঃজেলা সীমানাতেও একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও হুগলি জেলার সঙ্গে বাঁকুড়ার সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে আধুনিক ক্যামেরা বসতে চলেছে। ফলে সন্দেহজনক কোনও যানবাহন জেলায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তা পুলিশের নজরে চলে আসবে। একইরকমভাবে জেলায় কোনও অপরাধ সংগঠনের পর দুষ্কৃতীরা পালানোর সময় ক্যামেরায় ওঠা ফুটেজ দেখে পুলিশ তাদের পিছু ধাওয়া করতে পারবে। এভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমেই পুলিশ আধিকারিকরা কাজ করবেন। তার ফলে জেলায় দুষ্কৃতীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই পুলিশ কর্তাদের দাবি।