নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মোবাইল ছিনতাইয়ের ফুটেজ দেখতে গিয়েই পর্দা ফাঁস! পুরুলিয়া পুরসভার অফিস চত্বরে বসানো একাধিক সিসি ক্যামেরা কাজই করছে না। বিষয়টি সামনে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী। উদ্বিগ্ন কাউন্সিলার থেকে পুলিসও। কারণ, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই অধিকাংশ অপরাধের কিনারা করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। পুরুলিয়া পুরসভার চত্বরের মধ্যেই সেই সুযোগ একরকম নেই বলেই অভিযোগ। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকেই।
সোমবার পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে এক যুবতী এসে অভিযোগ করেন, পুরসভার চত্বরেই তাঁর ফোন ছিনতাই করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সিসি ক্যামেরায় সেই ঘটনার ফুটেজ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, ফুটেজ দেখতে গিয়ে নজরে আসেশহরের অধিকাংশ ক্যামেরাই খারাপ!
পুলিস সূত্রের খবর, ওই যুবতীর নাম শকুন্তলা বাস্কে। বাড়িটামনা থানা এলাকায়। পুরুলিয়া শহরেরনিস্তারিণী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁর অভিযোগ, সোমবার দুপুরে তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে পুরুলিয়া পুরসভায় এসেছিলেন। ফোনটি তাঁর হাতেই ছিল। পুরসভার ট্যাপে জল খাওয়ার সময় তিনি ফোনটি ব্যাগে রাখেন। জল খেয়ে তিনি বাসস্ট্যান্ডে যান। তখন ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করতে গিয়ে দেখেন, ব্যাগের চেন কাটা। ফোনটি কেউ হাতিয়ে নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুরুলিয়া পুরসভায় আসেন। যুবতীকে বিচলিত দেখে কি হয়েছে জানতে চান কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস। তখনই পুরসভায় ঢোকেন কাউন্সিলার ফাইজাল কামাল(শাহি)। তাঁরা দু’জনে ওই যুবতীকে নিয়ে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখতে চেয়ারম্যানের ঘরে যান। কিন্তু দেখা যায়, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে যুবতী অভিযোগ করছেন, সেই এলাকায় দু’টি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলি খারাপ! খবর দেওয়া হয় পুলিসে। পুরসভায় এসে পৌঁছয় সদর থানার পুলিস। আশেপাশের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন তারা। বিভাসবাবু বলেন, পুরসভায় আজ ছিনতাই হয়েছে। কাল অন্য কিছুও ঘটতে পারে। সিসি ক্যামেরার যদি কাজই না থাকে, তাহলে লাগিয়ে রাখার মানে কি?আমি চেয়ারম্যানের কাছে পুরসভার সমস্ত সিসি ক্যামেরা অবিলম্বে সারানোর দাবি জানাচ্ছি। জানা গিয়েছে, পুরসভায় অন্তত ১৫টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা থাকলে মাত্র গুটিকয়েক স্বয়ংক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালিও মানছেন, পুরসভার বহু সিসিক্যামেরা বিকল রয়েছে। আমরা সেগুলি সারানোর ব্যবস্থা করছি। প্রতীকী ছবি