


নয়াদিল্লি: উত্তরপত্র মূল্যায়ন ভুল হয়েছে। মানল সিবিএসই। পুনর্বিবেচনার আশ্বাসও দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে কী থেকে গোলমাল, আর কতজন একই সমস্যায় পড়েছেন, তা স্পষ্ট করেনি সিবিএসই। ঘটনার কেন্দ্রে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষা। চলতি মাসেই ফল প্রকাশিত হয়েছে। অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) নামে বিশেষ পদ্ধতিতে এবার পড়ুয়াদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছে সিবিএসই। আর সেখানেই বিস্তর গোলমালের অভিযোগ সামনে এসেছে। নম্বর কম হয়েছে এই দাবি মোটের উপর অনেক পড়ুয়াই করছেন। তবে দিল্লির বেদান্ত নামে এক পড়ুয়ার অভিযোগ ছিল সবচেয়ে গুরুতর। দ্বাদশের সামগ্রিক রেজাল্ট তাঁর মনের মতো হয়নি। তাই পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। যথাসময় সিবিএসই তাঁকে উত্তরপত্র পাঠায়। সেখানে বাকি সব ঠিক থাকলেও ফিজিক্সের উত্তরপত্রটি তাঁর নয় বলে অভিযোগ করেন বেদান্ত। প্রায় একইরকম অভিযোগ করেন সঞ্জনা নামে আরেক পড়ুয়াও। তিনি কেমিস্ট্রির উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের আবেদন জানান। নিয়মমতো তাঁকেও উত্তরপত্র পাঠায় সিবিএসই। কিন্তু তাঁর দাবি, সিবিএসই-র পাঠানো উত্তরপত্রের কেবল প্রথম পৃষ্ঠাটাই তাঁর। বাকি অংশের হাতের লেখা তাঁর নয়। দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগ গুরুতর। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় হয়। বেদান্তকে এর জন্য পাকিস্তানি কটাক্ষও শুনতে হয়। যদিও লোকসভার বিরোধী দলনেতা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে সরব হন। মোদিকে বিঁধে সিবিএসইকে তোপ দাগেন তিনি। এবার সিবিএসই-ও বিষয়টাকে ভুল হিসাবেই মানল।
উত্তরপত্র মূল্যায়নে গরমিলের কথা স্বীকার করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই ক্ষেত্রে নম্বর সংশোধন করা হবে। ইতিমধ্যেই বোর্ডের যুগ্ম সচিব বেদান্তকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে তাঁর সঠিক পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্র বলে দাবি করা খাতার কপি যুক্ত ছিল। চিঠিতে জানানো হয়েছে, তাঁর ফলাফল সেই অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হবে, এমন কিছু কেন্দ্রীয় সরকার বরদাস্ত করবে না। বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এই আবহে সামনে এসেছে নিসর্গ নামে এক হ্যাকারের দাবি। সিবিএসই-র পোর্টালে যে গরমিল রয়েছে সেকথা নাকি আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত ব্লগ পোস্টে এবং এক্স-এ শেয়ার করা বার্তায় নিসর্গ দাবি করেন, ফেব্রুয়ারিতেই বোর্ডের অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের মধ্যে একাধিক বড় নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই বিষয়ে রিপোর্টও করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সমস্যাগুলির বেশ কয়েকটি নাকি মাসের পর মাস অমীমাংসিত অবস্থায় ছিল। এবার বেদান্ত বা সঞ্জনার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ায় ফের সরব হয়েছে নিসর্গ। একে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলির মাধ্যমে যে কেউ নাকি যে কোনো পড়ুয়ার নম্বর দেখতে এবং বদলে দিতে পারত। তবে সিবিএসই তাঁর অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।