নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশ নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে বিরোধী সদস্যরা ডিসেন্ট নোট জমা দিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি সাংসদ রাধা মোহন দাস আগরওয়ালের কাছে। রাজ্যসভায় পেশ হওয়া রিপোর্টে অনুসারে, সাইবার ক্রাইমের তদন্তের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে সিবিআই। আর সেই সমস্যার সমাধানের রাস্তা বাতলে দিয়ে কমিটির সুপারিশ, দিল্লি পুলিস এস্টাব্লিশমেন্ট আইন সংশোধন করা হোক। সংশোধনী আইনে এমন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হোক যেখানে, দেশের যে কোনও রাজ্যের সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত তদন্ত করতে পারবে সিবিআই। কিন্তু সেজন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। অর্থাৎ সাইবার ক্রাইমের তদন্ত সিবিআই যখন ইচ্ছা করতে পারবে যে কোনও রাজ্যে।
রাজ্যসভার এমপি কেরলের আইইউএমএলের হরিশ বিরান এই সুপারিশে প্রবল আপত্তি তুলেছেন। ডিসেন্ট নোটে তিনি বলেছেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হেনে রাজ্যের অধিকারের পরিধিতে প্রবেশের সুপারিশ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এভাবে অবাধে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় প্রবেশাধিকারের অনুমতি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। রাজ্যের অধিকার খর্ব করে হস্তক্ষেপের অভিযোগ বারেবারেই উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিরুদ্ধেই সবথেকে বেশি অভিযোগ। আর খোদ সংসদীয় কমিটিই সেই অস্ত্র কেন তুলে দিচ্ছে সরকারের হাতে? সংসদীয় কমিটিতে এনডিএ সদস্যরাই সংখ্যায় বেশি। সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিনিয়ম লঙ্ঘন হলে যে কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তারজন্য নিয়োগ করতে হবে নোডাল অফিসার। এই ব্যবস্থার উপর জোর দিতে চায় কমিটি। এব্যাপারে বিরোধীদের দাবি, এটা আসলে স্বাধীন মিডিয়ার কণ্ঠরোধের চেষ্টা। কারণ ছোটখাটো ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ক্ষুদ্র পোর্টালের পক্ষে নোডাল অফিসার রাখা অথবা একটি রেসপন্স টিম নিয়োগ করা সম্ভব নয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির পক্ষ থেকে ওটিটি নিয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সিনেমার ক্ষেত্রে যে সিবিএফসি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়, সেই ব্যবস্থা ওটিটির জন্যও চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।