নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহম্মদবাজার ব্লকের পুরাতন গ্রাম ও সেকেড্ডার মাঝ বরাবর বয়ে গিয়েছে দ্বারকা নদ। নদ পেরিয়ে উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের যোগাযোগ রক্ষায় একমাত্র ভরসা কজওয়ে। কিন্তু বর্তমানে সেটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। সাইকেল সহ বাইক ও টোটো ও ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। ফলে সাঁইথিয়া সহ রামপুরহাট বিধানসভা এলাকার একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। অভিযোগ, ফি বছর বর্ষায় কজওয়ের দু’ ধার ভেসে গেলে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্রিজ সংস্কারের দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা স্থানীয়দের সেই দাবিকেই এবার বিধানসভায় তুলে ধরলেন। সেইসঙ্গে পূর্তদপ্তরের মন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন। বিধায়ক বলেন, ওই ব্রিজের অবস্থা খুবই খারাপ। বেশকিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। যদিও বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে ওই ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বারকা নদের উপর থাকা ওই কজওয়ের উপর দিয়ে একসময় সিউড়ি-সেকেড্ডা রুটের বাস চলত। ব্রিজ বেহাল হতে বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে ওই কজওয়ের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালের পর থেকে ফি বছরই কজওয়ের দু’ ধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি সংযোগকারী রাস্তা জলের তোড়ে ভেসে যায়। ফলও ওই সময় কজওয়ের উপর দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয় না। তার জেরে পুরাতন গ্রাম, সেকেড্ডা, দেঘলগ্রাম, শালুকা, বাতাসপুর, শোৎশাল, মল্লারপুর সহ প্রায় একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়। ওই সময় প্রায় দ্বারকার দু’ ধারের গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদবাজার থেকে রামপুরহাট যাওয়ার ক্ষেত্রেও ওই কজওয়ে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কজওয়ে বেহাল হওয়ায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কজওয়েটি দ্রুত সংস্কারের দাবি উঠছে। পুরাতন গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ আসগর বলেন, ওই কজওয়েটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটি বেহাল হওয়ায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেকেড্ডার বাসিন্দা আব্দুল রহিম বলেন, ২০১৯ সালের বর্ষায় কজওয়েটি প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বর্ষায় যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমাদের ১০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। আমরা চাই দ্রুত কজওয়েটি সংস্কার করা হোক। -নিজস্ব চিত্র