নিজস্ব প্রতিনিধি, মাইথন: মাইথনে পিকনিক করতে এসে প্রকাশ্যে মদ্যপান করলেই সোজা শ্রীঘরে! শীত মরশুম শুরু হতেই একের এক অভিযান। ধরপাকড়ও চলছে প্রায় প্রতিদিন। অনেক সময় অত্যন্ত সন্দর্পণেও পিকনিক স্পটগুলিতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। মাইথনের কাশিডাঙা। রবিবার, ছুটির দিন জলাধারকে ঘিরে পর্যটকদের থিক থিকে ভিড়। আচমকা সেখানে থামল পুলিশের জিপ। কিছুটা ত্রিপল বিছিয়ে পেঁয়াজ কাটার কাজ। পাশে রাখা মদের গ্লাস। পুলিশ দৌড়ে গিয়ে এক পর্যটককে তুলে নিয়ে গিয়ে সোজা চলে গেল জিপে। তাঁকে তুলে দিয়ে ফের হানা। তখন জলাধারে মদের বোতল নিয়ে ছবি তোলার পোজ দিচ্ছিলেন এক যুবক। তাঁরও ঠাঁই হল জিপে।
এদিন, কাশিডাঙায় বহু মানুষ পরিবার নিয়ে পিকনিক করছিলেন। তরুণী, যুবতীরাও ছিলেন। তাঁদের পাশেই ছেলেদের একটি দল পিকনিক করছিল। সেখানে প্রকাশ্যে মদ্যপান, মাতলামো করে অন্যদের সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে সালানপুর থানার কল্যানেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। মাইথন থার্ড ডাইয়েও অভিযান চালাতে দেখা যায় পুলিশ বাহিনীকে। প্রতিদিনই পাঁচ ছ’জনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মদ্যপানের মামলা রুজু হচ্ছে। থানা থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে তাঁদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। শীত পড়া মানেই সাধারণ পর্যটকের ভিড়ে রঙিন হয়ে ওঠে মাইথন। সকালের ঠান্ডা আমেজকে সঙ্গী করেই পর্যটকরা ভিড় জমান জলে টুইটুম্বুর মাইথন জলাধারের সামনে। সেখানে সেলফি জোনও করা হয়েছে। স্লানগ্লাস পরে নানা পোচে সেল্ফি নিতে তুমুল উৎসাহ দেখা যায়। বহু অস্থায়ী দোকান বসেছে। সেখানে মাইথন লেখার কাঠের কাজ নজর কাড়ছে। অন্য ঘর সাজানোর ও শিশুদের মনোরঞ্জনের উপযোগী নানা খেলনা বিক্রি হচ্ছে। বড় দিনের আগেই রবিবার থেকে পুরো মাত্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে পিকনিক।
মাইথনের মূল আকর্ষণ জলাধারে নৌকা বিহার। জলাধারের মধ্যে অবস্থিত সবুজ দ্বীপ, আনন্দ দ্বীপে গিয়ে মজা করা পিকনিকের উপরি পাওনা। নৌকাগুলি নতুন রঙে সেজে উঠেছে। নীল জলরাশির বুক চিরে যাওয়া রঙিন নৌকাগুলি মাইথনের সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটকরা নৌকা বিহারের আনন্দ নিচ্ছেন। সেখানে চোখে পড়েছে নিরাপত্তার বড়সড় গলদ। কোনও নৌকাতেই এদিন দেখা যায়নি লাইফ জ্যাকেট। তা না পরেই পর্যটকদের নৌকা বিহারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিন থেকেই মাইথন অভিমুখে আসা পর্যটকদের গাড়ির উপর টোল নেওয়া শুরু করেছে সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি। বড় বাস আড়াইশো টাকা, মিনি বাস ২০০, চারচাকা গাড়ির উপর দেড়শো টাকা তোলা হচ্ছে। একটি ঠিকা সংস্থাকে টোল চালানোর বরাত দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব মাইথন টুরিস্ট স্পটটি পরিস্কার রাখা। এদিন কিন্তু পরিচ্ছন মাইথন দেখা যায়নি। যা নিয়ে পর্যটকরা প্রশ্ন তুলেছেন।