অভিষেক পাল, বহরমপুর: শুক্রবার ভোররাতে জঙ্গিপুর মহকুমার বাহুরা ঘাট সীমান্ত এলাকায় পাকড়াও হয়েছে এক গোরু পাচারকারী। বিএসএফ ধৃতকে পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছে। মোট ১১টি গোরু উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, মুর্শিদাবাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের সক্রিয় গোরুপাচার চক্র। অল্প সংখ্যক গোরু নিয়ে পায়ে হেঁটে সীমান্তের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তারপর রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে পাচার করে দিচ্ছে। সীমান্তে এখন পাট চাষ হয়েছে। উঁচু পাটগাছের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে চলছে গোরুপাচার। সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং পুলিসের নজর এড়িয়েই চলছে পাচার।
শুক্রবার ভোররাতে বিএসএফের বাহুরা ফাঁড়ির ৭১ নম্বর দক্ষিণবঙ্গ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা বেশ কয়েকটি গোরু আটক করে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ জওয়ানরা বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে গোরু নিয়ে যেতে দেখে। বিএসএফ ধাওয়া করে একজন ভারতীয় পাচারকারীকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ওই এলাকা দিয়ে গোরুপাচারের অভিযোগে গত সপ্তাহে মোট ১৩ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। গত রবিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জের কানুপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের বেশিরভাগেরই বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ ও বীরভূম জেলার পাইকর থানা এলাকায়। তাদের হেফাজত থেকে ৩৯টি গোরু উদ্ধার হয়েছে। ওই এলাকার একটি চক্র লাগাতার গোরু পাচার করছে বলে মনে করছে পুলিস। গোরুগুলোকে একটি খাটালে রাখা হয়েছে। সেগুলো বাংলাদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিসের। ধৃতরা গোরুগুলো কোথা থেকে আমদানি করেছে ও ঠিক কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের জেরা করছে পুলিস।
জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জের কানুপুর ও অজগরপাড়ায় হানা দেয় পুলিস। জনা ১২ যুবক গোরুগুলি হাঁটিয়ে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিস যুবকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা নানা কথা বলে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাদের কথায় প্রচুর অসঙ্গতিও ধরা পড়ে। তারা গোরুগুলোর কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পুলিস তাদের গ্রেপ্তার করে। গোরুগুলোকে স্থানীয় একটি খোঁয়াড়ে রাখা হয়। ধৃতদের প্রাথমিকভাবে ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে রঘুনাথগঞ্জের এক গোরু কারবারির নাম জানতে পেরেছে পুলিস। সোমবার রাতে জাগুনপাড়ায় হানা দিয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকেও হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিপুরের দিক থেকে গোরু নিয়ে এসে লালগোলা সীমান্ত দিয়েও পাচার করার চেষ্টা চলছে। লালগোলার তারানগর ও আটরশিয়া সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচারের চেষ্টা চলছে। জলঙ্গির রানিতলা ও রানিনগর সীমান্তেও নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিস ও বিএসএফ। বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, বর্ষার সময় যেভাবে পাটগাছ সীমান্তে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তাতে নজরদারিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এই পাটগাছের আড়ালে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে কিংবা ভোররাতে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমাদের কড়া নজরদারিতে তা আটকানো যাচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতার। টহল দিচ্ছে বিএসএফ। -নিজস্ব চিত্র