নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, ইসলামপুর: গোয়ালপোখর-২ বিডিও অফিসে হামলাকাণ্ডে অন্তত ৩০০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্তে নামল চাকুলিয়া থানার পুলিশ। ঘটনার পর দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে দফায় দফায় অভিযানে নেমে পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে হাজির করে। আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, দুটি পৃথক মামলায় ৭ জনকে ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠায় আদালত। বিডিওর অভিযোগের ভিত্তিতে হওয়া মামলায় ৩ জনকে এবং তৃণমূলের তরফে হওয়া মামলায় ৪ জনকে পুলিশ হেফাজত দিয়েছে আদালত। এদিন বিকেলে চাকুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বিস্তীর্ণ এলাকায় রুটমার্চ করে।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার পিছনে প্রকৃত মাস্টার মাইন্ড কে বা কারা? কাদের প্ররোচনায় শতাধিক জনের ভিড় আচমকা অশান্তির আবহ তৈরি করল? এসব বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে বিডিও অফিস ও আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাতে অন্যান্য অভিযুক্তদের সহজে চিহ্নিত করা যায়। ইসলামপুরের পুলিশ সুপার জবি থমাসের বক্তব্য, অশান্তির ঘটনায় গোয়ালপোখর-২ এর বিডিও গোটা ঘটনার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। আরও একটি অভিযোগ এসেছে তৃণমূলের তরফে। কারণ, ওই হুলুস্থুলকাণ্ডের সময় তৃণমূলের একটি কার্যালয়েও হামলা হয়। ভাঙচুর চলে। দুটি অভিযোগকে ভিত্তি করে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। অন্তত ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অশান্তি পাকানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সরকারি কর্মীদের বাধা, হেনস্তা, মারধর সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। তার থেকে ১৯ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে চাকুলিয়ায় ওই বিডিও অফিস চত্বরের পরিস্থিতি এদিন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইসলামপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল ও একজন এডিএম এদিন সরেজমিনে বিডিও অফিস পরিদর্শনে আসেন। একপ্রস্থ বৈঠকও করেন আধিকারিকদের সঙ্গে। জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, গন্ডগোল হলেও এদিন যথারীতি সরকারি কাজকর্ম ওই বিডিও অফিসে হয়েছে। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, এদিন সকাল থেকেই অফিস ও অফিস ক্যাম্পাস ভাঙচুর হওয়া সামগ্রী, অগ্নিদগ্ধ আসবাবপত্র সাফাইয়ের কাজ চলে। যাঁদের হিয়ারিংয়ের জন্য এদিন ডাকা হয়েছিল, তাঁদের অনেককেই বিডিও অফিস ক্যাম্পাসে চলে আসেন।