নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জলপাইগুড়িতে। গত সাতমাসে প্রায় ন’শো জন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা হয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে। এই পরিস্থিতিতে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আউটডোরের দিন বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ক্যান্সারের ওপিডি চলে। এবার থেকে বুধবারও ক্যান্সারের আউটডোর করার ইচ্ছেপ্রকাশ করে ইতিমধ্যেই মেডিক্যালের অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ প্রেমনাথ দত্ত। বিষয়টি নিয়ে মেডিক্যালের কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। সেইসঙ্গে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আলাদা করে ফিজিওথেরাপি ইউনিটের ভাবনাচিন্তা চলছে। এতদিন ক্যান্সার বিভাগে ফিজিওলজিস্ট থাকলেও ফিজিওথেরাপির সরঞ্জাম সেখানে ছিল না। এবার ক্যান্সার বিভাগেই আলাদা করে ফিজিওথেরাপির ইউনিট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, চিকিৎসা পেতে ক্যান্সার রোগীদের যাতে হয়রান হতে না হয়, সেটা দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাঁদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে বর্তমানে ক্যান্সার বিভাগে যেসব চিকিৎসা পরিষেবা চালু রয়েছে, তার সঙ্গে আরও কিছু যুক্ত করা হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের ক্যান্সার বিভাগের চিকিৎসক রাহুল ভৌমিক বলেন, গত সাতমাসে আমরা প্রায় ন’শো জন ক্যান্সার আক্রান্তের চিকিৎসা করেছি। এর মধ্যে আড়াইশো নতুন রোগী। তিনশো ক্যান্সার রোগীকে বিনামূল্যে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে ব্রেস্ট ক্যান্সার। পুরুষদের ক্ষেত্রে ফুসফুস এবং মুখগহ্বরের ক্যান্সার বৃদ্ধির ঘটনা বিশেষভাবে নজরে আসছে।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে ক্যান্সার চিকিৎসায় চালু হয়েছে সিটি গাইডেড বায়োপসি। এতে রোগীর শরীরে ঠিক যেখানে ক্যান্সার, সিটি স্ক্যান করে তা দেখে সেখান থেকে বায়োপসির জন্য নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। পরীক্ষার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে রোগীকে।
রাহুল ভৌমিক বলেন, ক্যান্সারের রোগীদের যন্ত্রণা উপশম করতে সপ্তাহে একদিন করে প্যালেটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করেছি। ক্যান্সারের রোগীদের জন্য মাল্টি ডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসা চলছে। প্রায় ৭০ জন ক্যান্সার আক্রান্তের সিটি গাইডেড বায়োপসি করেছি। বেসরকারি জায়গা থেকে ওই পরীক্ষা করাতে অন্তত ১২ হাজার টাকা খরচ। কোন কোন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সম্ভব, তা নিয়েও সচেতন
করা হচ্ছে।