মানুষের মনখারাপের ওষুধ যদি ভালো গান, বই কিংবা টুক করে কোথাও ঘুরে আসা হয়, তবে ঘরের মনখারাপের ওষুধ ঝাঁ চকচকে একটা মেকওভার। পুজোর আগে ঘরকে ঝেড়েমুছে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে চান প্রায় সকলেই। কারও সময়ের অভাব কেউ আবার পরিশ্রমকে ভয় পান। তবে ঘরের রূপ বদলে গিয়েছে দেখলে মন ভালো হয় না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ঘরের সাজবদলে ইদানীং বড় সহায় হয়েছে কার্পেট। নিখুঁত নকশা বোনা কার্পেট রং-রূপ-আভিজাত্যে অন্দরসাজে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। কার্পেটের শিল্পকর্ম গৃহস্থের রুচিরও পরিচায়ক। তবে যে কোনও ঘরে যেমন খুশি কার্পেট কিন্তু মানায় না। ঘরের আকার, ঘরটির ধরন, রং, ব্যবহার সবকিছুর উপর কার্পেট নির্ভর করে। তুরস্ক, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, কাশ্মীর ইত্যাদি জায়গার কার্পেট বড় মনোরম। আভিজাত্য ও সাবেকিয়ানার বুনটে কার্পেটের জগতে পার্সি, কাশ্মীরি কার্পেটের কদর বেশি। তবে পকেটসই দামে কার্পেট কিনতে অনেকেই ইদানীং হালকা কোনও ফ্যাব্রিকের কার্পেট পছন্দ করছেন। হালকা কার্পেট ধোয়াকাচা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাও সহজ। হাল ফ্যাশনের সুতি, উল, পাট, মাদুরকাঠি সহ নানা ধরনের ফ্যাব্রিকে কার্পেট তৈরি হয়।
তবে রং ও নকশা দেখে পছন্দসই কার্পেট কিনলেই হল না, কার্পেট দিয়ে ঘর সাজানোর নানা নিয়ম থাকে। এক একট ঘরের জন্য এক একরকম কার্পেট প্রয়োজন হয়। তাই সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রেখে তবেই কার্পেট পছন্দ করা উচিত। পুজোর আগে ঘর সাজানোর পরিকল্পনায় কার্পেটের ভাবনা আছে কি? রইল তার সুলুকসন্ধান।
ঘর বুঝে কার্পেট: প্রথমেই ভেবে নিন কোন কোন ঘরের জন্য কার্পেট কিনবেন। শোওয়ার ঘরে যে ধরনের কার্পেট প্রয়োজন, বসার ঘর বা শিশুর ঘরে আবার তার ধরন বদলাবে। শোওয়ার ঘরে একটা বড় খাট থাকে, তাই বড় ছড়ানো কার্পেট পাতার জায়গা থাকে না। বরং খাট থেকে নেমে যাতে পা ঠান্ডা মেঝেয় না পড়ে, তাই খাটের সামনে মেঝেয় একটা ছোট কার্পেট পেতে রাখুন। বসার ঘর বা ডাইনিংয়ের জন্য সেরা নকশার কার্পেট রাখুন। কফি টেবল, সোফা সহ নানা বসার বন্দোবস্ত যেন এই কার্পেটের উপরেই থাকে। ডাইনিং টেবল রাখতে একটি আলাদা মোটা ফোমের কার্পেট ব্যবহার করলে ভালো হয়। রান্নাঘরের সামনে বা বাথরুমের সামনে কার্পেট না রাখাই ভালো। বরং জল শোষণ করে এমন রাগ বা পাপোশ রাখতে পারেন। রান্নাঘরে চিমনি থাকলেও হাওয়াবাতাসে কিছু তেলের কণা, আগুনের ভাপ উড়তে থাকে। তাই রান্নাঘরের মেঝেয় কিছু পাতবেন না। বেসিনের কাছে ওয়েট ল্যান্ড আলাদা থাকলে সেখানে একটি জলরোধী রাগ বা পাপোশ রাখুন। বরং বাড়িতে ঢোকার প্রবেশপথে লম্বা গালিচা পাততে পারেন। তবে তা যেন পায়ের ঘষায় কুঁচকে না যায়। বরং এক্ষেত্রে নীচে রাবার যোগ করা থাকে, এমন কার্পেট বাছতে পারেন। এতে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। শিশুর ঘরেও রাখুন এমন রাবার যোগ করা কার্পেট। বসার ঘরের জন্য পাতলা গালিচা নির্বাচন করতে পারেন, যা প্রয়োজনে জল দিয়ে কাচতে পারবেন। কারণ, মানুষজনের আনাগোনায় এগুলি দ্রুত নোংরা হয়।
কার্পেটের আকার: একটা সময় ছিল যখন কার্পেট বলতে শুধুই আয়তকার কার্পেট বোঝাত। তবে ইদানীং গোলাকার, ডিম্বাকৃতি বা নানা জ্যামিতিক আকারের কার্পেট মেলে। বসার ঘরে বা বৈঠকখানায় অ্যাসিমেট্রিক আকারের কার্পেট খুব ভালো দেখায়।



