


ঘরের শোকেসে থাকা শৌখিন চিনামাটির বাসন একদিকে যেমন গৃহকোণের সৌন্দর্য অন্যদিকে পারিবারিক আভিজাত্যের পরিচায়কও বটে। তবে, অতিরিক্ত ব্যবহারে বা যথাযথ যত্নের অভাবে সেই শখের বাসনেও পড়ে মালিন্যের প্রলেপ। কিন্তু সঠিক যত্ন আপনার প্রিয় বাসনে আবার ফিরিয়ে আনতে পারে তারুণ্যের ঔজ্জ্বল্য।
শৌখিন অথচ ভঙ্গুর এই বাসনগুলো ভালো রাখতে প্রয়োজন একটু বিশেষ যত্নআত্তি। কীরকম সেই যত্ন? আসলে বাসন ব্যবহারের পরে পরিষ্কার করার সময় কিছু নিয়ম মেনে পরিষ্কার করলে ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে। মেনে চলুন কিছু নিয়ম।
১. মৃদু সাবান
বাসন ধোয়ার ক্ষেত্রে কড়া রাসায়নিক যুক্ত ডিশওয়াশারের পরিবর্তে লিকুইড ডিশওয়াশার ব্যবহার করতে পারেন।
২. হালকা গরম জলের ব্যবহার
খাওয়ার পর বাসনে তেলের দাগ লেগে থাকলে তার ওপর ঈষদুষ্ণ জল ঢেলে স্পঞ্জ দিয়ে মুছে নিন। তবে এক্ষেত্রে জল যেন খুব বেশি গরম না হয় সে বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ অনেক সময় অতিরিক্ত গরম জলে বাসন ফেটে যেতে পারে।
৩. নরম স্ক্রাব ব্যবহার
বাসনের গায়ে অবাঞ্ছিত আঁচড় এড়াতে নরম স্পঞ্জ জাতীয় স্ক্রাব প্যাড ব্যবহার করুন। স্টিলের স্ক্রাবার বা শক্ত জাতীয় স্ক্রাব প্যাড ব্যবহার করলে বাসনে দাগ পড়তে পারে।
শুধু ধুয়ে রাখাই নয় তারপরে শুকনো করে গুছিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়মাবলি অবলম্বন করলে বাসন দীর্ঘদিন সুন্দর রাখা সম্ভব।
১. জল ঝরিয়ে রাখা
বাসন ভালোভাবে ধোয়ার পর একটি আবশ্যিক পর্ব হল জল ঝরানো। জল না ঝরিয়ে পাত্রটি উল্টে রাখলে অনেক সময় তাতে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই জল ঝরিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখাটাই বাঞ্ছনীয়।
২. ঘষা যেন না খায়
জল ঝরিয়ে নেওয়ার পর বাসন গুছিয়ে রাখার সময় একটি পাত্র রেখে তার ওপর পাতলা কাগজ, টিস্যু অথবা বাবল পেপার রেখে তারপর আরেকটি পাত্র রাখুন। এভাবে ঘষা খাওয়া রোধ করা গেলে বাসনের গায়ে স্ক্র্যাচ পড়ে না।
এ তো গেল সাধারণভাবে পরিষ্কারের কথা। কিন্তু বাসনে পুরনো দাগ বা চা, কফি জাতীয় পানীয়ের দাগ দূর করতে গেলে কিছু পন্থা অবলম্বন করলে উপকার পাবেন।
১. বাসনে পুরনো চায়ের দাগ বা হলদেটে দাগ থাকলে লেবুর সঙ্গে অল্প নুন মিশিয়ে করে ঘষলে সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
২. ছোটো কোনো পোড়া দাগ দূর করতে দাগের ওপর সাদা টুথপেস্ট (জেল জাতীয় নয়) লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তারপর ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে আলতো করে ঘষলেই দাগ উঠে যাবে।
৩. এক চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে তা দাগের ওপর লেপে দিয়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট রেখে দিন। এরপর নরম স্পঞ্জ দিয়ে ধুয়ে নিলেই দাগ ভ্যানিশ।
এছাড়াও বাসনের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ধোয়ার সময় জলের সঙ্গে সামান্য সাদা ভিনিগার মিশিয়ে নিতে পারেন। শুধু ভিনিগার নয়, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মিশ্রিত জলে বাসন ধুলেও উজ্জ্বল দেখায়।
শুধু ধোয়া বা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে নয়, মাইক্রোওয়েভ আভেনে চিনামাটির পাত্রে রান্না বা খাবার গরম করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখলে ভালো থাকবে আপনার শখের বাসন।
১. খাবার গরম করার সময় ফ্রিজ থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গেই চিনামাটির পাত্রে কোনো খাবার মাইক্রোওয়েভ আভেনে বা গরম জলে রাখবেন না। কারণ তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে পাত্রটি ফেটে যেতে পারে।
২. বাসনের গায়ে সোনালি বা রূপোলি বর্ডার অথবা তেমন কোনো কারুকার্য করা থাকলে সেই বাসন মাইক্রোওয়েভ আভেনে ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত গরমে কারুকার্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া গোল্ড বা সিলভার ফয়েল মাইক্রো সেফ নয়।
ব্যবহারের সময় এরকম ছোটো ছোটো কিছু সতর্কতা আর আপনার হাতের যত্নই মালিন্য রোধ করে আপনার শখের বাসনগুলিকে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখতে পারে।
প্রদীপ্তা কুণ্ডু