Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামের বাতাসে বাড়ছে কার্বন-ডাই অক্সাইড, কমছে অক্সিজেনের পরিমাণ

ঝাড়গ্রাম শহরের বায়ুতে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। শহরের জুবিলি মার্কেট, পাঁচমাথা মোড়, আদালত ও কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ সহনশীলতার মাত্রা থেকে ১০০পিপিএমের বেশি বেড়েছে।

ঝাড়গ্রামের বাতাসে বাড়ছে কার্বন-ডাই অক্সাইড, কমছে অক্সিজেনের পরিমাণ
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের বায়ুতে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। শহরের জুবিলি মার্কেট, পাঁচমাথা মোড়, আদালত ও কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ সহনশীলতার মাত্রা থেকে ১০০পিপিএমের বেশি বেড়েছে। শহরের বাতাসে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মাত্রাও কমেছে। সম্প্রতি এবিষয়ে একটি ফিল্ড সার্ভে বা ক্ষেত্র সমীক্ষায় এমনই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাস্থ্য উদ্ধারের স্থান বলে পরিচিত ঝাড়গ্রামে এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Advertisement

মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভালো জল-হাওয়ার কারণে একসময় বহু মানুষ রোগমুক্ত হতে ঝাড়গ্রাম জেলায় আসতেন। গত শতাব্দীর পাঁচের দশকে ঝাড়গ্রাম শহর গাছপালায় ভরা ছিল। বাসিন্দার সংখ্যা ছিল টেনেটুনে সাতহাজার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মানুষ স্বাস্থ্য উদ্ধারে এসে ঝাড়গ্রামে স্থায়ীভাবে থেকে গিয়েছেন। ২০০০সাল থেকে শহরের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়িঘর, দোকানপাট, আবাসন তৈরির ফলে বন, কৃষিজমি ও জলাভূমির পরিমাণ কমতে থাকে। ২০২০সালের পর থেকে ক্ষেত্র সমীক্ষায় ঝাড়গ্রাম শহরের পরিবেশ বদলের ছবি ধরা পড়তে শুরু করে। সুস্থ পরিবেশের জন্য বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা ১৯.৫০ থেকে ১৯.৮০ শতাংশ থাকা উচিত। কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৩৮০ থেকে ৪২০পিপিএমের মধ্যে থাকা দরকার। কিন্তু এবছর ক্ষেত্র সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচমাথা মোড় এলাকায় বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৫২০-৫৮০পিপিএম। জুবিলি মার্কেটে তা ৫৬০-৬২০পিপিএমে পৌঁছেছে। জনবহুল ও বদ্ধ এলাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ২শতাংশ কম দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু কেন এই পরিবর্তন? ২০২০সালে ঝাড়গ্রাম শহরের ৬.২৬ বর্গকিমি এলাকা বনভূমি ছিল। এখন তা কমে ৪.৯৬ বর্গকিমি হয়েছে। ২১শতাংশ বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। শহরে বাড়িঘর, দোকানপাট, আবাসন প্রভৃতি মিলে ৮.৩৮ বর্গকিমি ছিল। এখন তা বেড়ে ১২.৩১ বর্গকিমি হয়েছে। বসতবাড়ির সংখ্যা ৪৭শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচবছরে ২০শতাংশ জলাভূমি হ্রাস পেয়েছে। ২.৮৫ বর্গকিমি কৃষিজমি ছিল। এখন তা ১.৮০ বর্গকিমিতে নেমে এসেছে। শহর এলাকায় ৩৭ শতাংশ কৃষিজমি হ্রাস পেয়েছে। পতিত ও ফাঁকা জমি ৩৯শতাংশ কমে গিয়েছে।
জামবনীর সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়ের ভূগোলের বিভাগীয় প্রধান প্রণব সাহু ওই ক্ষেত্র সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, করোনার সময় ঝাড়গ্রাম শহরের পরিবেশ নিয়ে ক্ষেত্র সমীক্ষা করা হয়। সেসময় শহরে পরিবেশ দূষণ কমে যাওয়ায় তথ্য উঠে এসেছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক ক্ষেত্র সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহরে ঘন জনবসতি, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়েছে। কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। এই পরিবেশে স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা আছে।
ওই ক্ষেত্র সমীক্ষায় যুক্ত গবেষক প্রহ্লাদ বর্মন বলেন, শহরের শ্রীরামপুর, গাইঘাটা ও সারদা বিদ্যাপীঠ এলাকায় এখনও কিছুটা সবুজ রয়েছে। বাকি এলাকায় গাছপালা কমে গিয়েছে। ফলে ওই সমস্ত এলাকার আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ঘন জনবসতি এলাকায় বাড়িতে গাছগাছালি লাগাতে হবে। ছাদবাগান করতে হবে। ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগাতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ