Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিরিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ল গাড়ি, মৃত চার

চার দিনের মাথায় বুধবার ফের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় খাদে পড়ল যাত্রীবোঝাই গাড়ি। ঘটনায় মারা গিয়েছেন চারজন। জখম হয়েছেন ১৬ জন।

মিরিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ল গাড়ি, মৃত চার
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: চার দিনের মাথায় বুধবার ফের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় খাদে পড়ল যাত্রীবোঝাই গাড়ি। ঘটনায় মারা গিয়েছেন চারজন। জখম হয়েছেন ১৬ জন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালের কাঁকড়ভিটা থেকে মিরিকের উদ্দেশ্য যাচ্ছিল যাত্রীবোঝাই গাড়িটি। মিরিকের নলডাড়াতে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে চালক সহ মোট ২০ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার জেরে দুই মহিলা সহ চারজনের মৃত্যু হয়। 

Advertisement

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরিক থানার পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জখমদের উদ্ধার করে। আটজনকে পানিঘাটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। তিনজনকে পাঠানো হয় মিরিক মহকুমা হাসপাতালে। পাঁচজনকে আনা হয় সমতলের নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। পরবর্তীতে সেখান থেকে দু’জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসাধীন। 
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন সোহিনী ছেত্রী (৩৭), ওয়াংচন্দ তামাং (৪০), ধনবাহাদুর কাটোয়াল (৭৩) এবং বিনীতা তামাং (২৬)। ওয়াংচন্দ ও বিনীতা সম্পর্কে ভাই-বোন। প্রথমজন নকশালবাড়ির নিরপানি বস্তির বাসিন্দা ছিলেন। দ্বিতীয়জন মিরিকের এবং তৃতীয়জন সৌরনীর বাসিন্দা। বিনীতা নেপালের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জু ছেত্রী বলেন, প্রতিদিন এই ছোট গাড়িটি কাঁকড়ভিটা থেকে মিরিকে আসে। চালক পাহাড়ের প্রতিটি বাঁক সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল। সম্ভবত গাড়ির ব্রেক ফেল হয়ে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। 
প্রসঙ্গত, গত শনিবারই কার্শিয়াংয়ে ওঠার পাঙ্খাবাড়ির রাস্তায় ৫০০ ফুট গভীর খাদে একটি ছোট গাড়ি পড়ে যায়। তাতে নকশালবাড়ির দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছিলেন আরও তিনজন। আবার পাহাড়ি রাস্তার খাদে পড়ল যাত্রীবোঝাই গাড়ি। বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটা। অধিকাংশ যাত্রী সেই উপলক্ষ্যে মিরিক যাচ্ছিলেন। গাড়িতে দুই শিশু-কিশোর সহ মহিলা যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। মৃত নেপালের বাসিন্দা বিনীতা তামাং তাঁর চার বছরের সন্তানকে নিয়ে দাদা ওয়াংচন্দের সঙ্গে বাপেরবাড়ি মিরিক যাচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে, বিনীতার স্বামী কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। সোহিনী ছেত্রীও ভইফোঁটা উপলক্ষ্যে মিরিক যাচ্ছিলেন। 
মিরিক থানার ওসি সুদীপ বিশ্বাস বলেন, নলডারা এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। চালক সহ মোট ২০ জন ওই গাড়িতে ছিলেন। চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৬ জন কমবেশিই চোটআঘাত পেয়েছেন। জখমদের মধ্যে শিশু-কিশোর ও মহিলার সংখ্যাই বেশি। জখমদের মিরিক হাসপাতাল, পানিঘাটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। চালকও জখম হয়েছেন। সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ