নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জাতীয় সড়কে উল্টে গিয়েছে মাছের গাড়ি। রাস্তার উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে দুই-আড়াই কেজি ওজনের রুই, কাতলা। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাইক থামালেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত। জাতীয় সড়কের উপর লাফাতে থাকা দু’টি মস্তবড় কাতলা দু’হাতে জাপ্টে ধরে ওই নেতা দৌড় লাগালেন। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। দুর্ঘটনার মুখে পড়া গাড়ি চালককে উদ্ধার না করে মাছ কুড়িয়ে পালানোর ঘটনায় বিজেপি নেতার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মাছ কুড়নোর কথা স্বীকারও করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, ঘটনাটি চার বছরে পুরনো। মেচেদায় জাতীয় সড়কে মাছের গাড়ি উল্টে গিয়েছিল। স্থানীয়দের নিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারে সরিয়ে নিয়ে যান। তারপর ড্রাইভারের পরামর্শে দু’টি কাতলা কুড়িয়ে বাড়ি নিয়ে যান। বৃষ্টি হওয়ার জন্য তিনি দৌড়েছিলেন। তাঁর আরও সংযোজন, তৃণমূল তাঁর ভাবমূর্তি খারাপ করতে চার বছরের পুরনো ভিডিও ফেসবুকে ছেড়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক থেকে জেলা পরিষদে জয়ী হন বামদেব গুছাইত। এখন জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা। তাঁর স্ত্রী খারুই-২ পঞ্চায়েতের প্রধান। ওই পঞ্চায়েত সমিতিও বিজেপির দখলে ছিল। দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৪ আগস্ট পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সঙ্গীতা আদক মাইতি তৃণমূলে যোগ দেন। ওই ঘটনার পর সঙ্গীতাদেবীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বামদেব। শনিবার বিজেপি কাঁকটিয়ায় প্রতিবাদ মিছিল করে পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর কুশপুতুল দাহ করে। সঙ্গীতাদেবীর চরিত্র নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রতিবাদে রবিবার কাঁকটিয়া বাজারে প্রতিবাদ সভা করে তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর দলবদল ঘিরে উত্তপ্ত শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের রাজনীতি। তৃণমূল ও বিজেপির নেতাদের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চলছেই। এই আবহে সোমবার ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুমিত সামন্ত ওই বিজেপি নেতার দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির মাছ কুড়িয়ে দৌড়ে পালানোর ভিডিও পোস্ট করেন। একইসঙ্গে ওই পদ্ম নেতার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।



