সংবাদদাতা, ইসলামপুর: চাকুলিয়ায় হিংসাত্মক আন্দোলনের পর পুলিশি ধরপাকড়ের ভয়ে ঘরছাড়া অনেকে। বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে, থেমে নেই শুনানি। একাধিক কেন্দ্রে এসআইআরের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানি চলছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার উন্মত্ত জনতার হিংসাত্মক আন্দোলনের কারণে অনেকের শুনানি হয়নি। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবারও শুনানি বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতিতে ওই দু’দিন যাদের শুনানি হয়নি, তাঁরা পড়েছেন মহাচিন্তায়। এখনও পর্যন্ত সেবিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দিন না জানানোয় চাপ বাড়ছে তাঁদের। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, পুনরায় নোটিস পাঠানো হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য চাকুলিয়ায় প্রায় ৭০ হাজার ভোটার শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার শুনানি সম্ভব হয়নি। তবে, শনিবার থেকে অতিরিক্ত আটটি কেন্দ্র চালু করে শুনানি শুরু হয়েছে। চাপ কমাতে শুনানির কাজ হয়েছে রবিবারও।
ইসলামপুর মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল বলেন, চাকুলিয়া কাণ্ডের ফলে যাঁদের শুনানি সম্ভব হয়নি, তাঁদের ফের ডাকা হবে।
শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার চাকুলিয়ার একাধিক জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন হয়েছে। স্থানীয় গোয়ালপোখর ২ বিডিও অফিসে প্রায় তিনশো জন যথেচ্ছ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। সমাজকল্যাণ বিভাগের ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করা হয়। যুবকল্যাণ দপ্তরের ঘর ও বাংলা সহায়তা কেন্দ্র তছনছ করার পর পর আগুন ধরিয়ে দেয়। অফিসের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভাঙচুর করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসেও।
পুড়িয়ে দেওয়া নথির মধ্যে এসআইআর কিংবা শুনানি সংক্রান্ত নথিপত্রও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহকুমা শাসক বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার বিডিও অফিসে তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তৃণমূল পার্টি অফিস ভাংচুর কাণ্ডে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। শনি ও রবিবার নতুন করে কেউ ধরা পড়েনি। এসপি জবি থমাস বলেন, হামলাকারীদের সবাইকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অধিকাংশই পলাতক। তাদের ধরতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে।