এমনটা ভাবেন অনেকেই। পঞ্চাশে পা দিয়ে রেড মিট তকমা লাগিয়ে পাঁঠার মাংসকে জীবন থেকে দূর করে অনেকেই মুরগির মাংস যেমন খুশি খেয়ে থাকেন। কারণ তারা ধরেই নেন, মুরগির মাংস খেলে সাত খুন মাফ। কী থাকে ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে? প্রোটিন ২৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৪ গ্রাম, ফ্যাট ০.৫ গ্রাম,আয়রন ২ মিলিগ্রাম, ক্যালশিয়াম ৩৫ মিলিগ্রাম ফসফরাস ২৪৫ মিলিগ্রাম। এছাড়া থাকে কিছু খনিজ লবণ এবং বি গ্রুপের ভিটামিন। দেশি, ব্রয়লার, লেয়ার ইত্যাদি নানা ধরনের মুরগির মধ্যে ছোট দেশি মুরগিতে ফ্যাট কম থাকে, খেতেও সুস্বাদু।
মুরগির মাংসের প্রোটিন খুব উন্নত মানের। দেহের পক্ষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড এতে থাকে। ফ্যাট খুব সামান্য পরিমাণে থাকায় হার্ট এবং রক্তনালীর অসুখের আশঙ্কা কম থাকে। নানা ধরনের খনিজের উৎস হিসেবে মুরগির মাংস ভীষণ উপকারী, বিশেষ করে সেলেনিয়াম এবং ফসফরাস।পাঁঠার মাংসের তুলনায় ফাইবার বেশি থাকাতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মুরগির মাংস।
মুরগির মাংস সহজপাচ্য,পুষ্টিকর এবং কম ফ্যাটযুক্ত বলে অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করেন। ডাক্তারবাবুরা রেকমেন্ড করেন। কিন্তু রোজ কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে এর উপকার। রোস্টেড বা ফ্রাইড চিকেন খেতে দারুন লাগে কিন্তু শরীরের পক্ষে ভালো নয়। প্রিপারেশনের সময় নানা ধরনের কার্বন এবং নাইট্রোজেনের যৌগ এতে তৈরি হয়, যেগুলোর প্রত্যেকটিই ক্যান্সার উদ্দীপক। দীর্ঘদিন খেলে অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার হতে পারে। বয়েলড চিকেন, অল্প ঝালে ঝোলে চিকেন কারি, চিকেন স্টু খুবই পুষ্টিকর। ৫০-৬০ গ্রাম চিকেন প্রতিদিন খেতে পারেন ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ,তারপর সপ্তাহে তিন দিন, এর বেশি নয়। যাদের কিডনির অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে, তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও মাংসই খাবেন না।
পাঁচের ঘরে পা দিয়ে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন বাঙালি পাঁঠার মাংসকে চিরতরে গুডবাই জানিয়ে নিয়মিত প্রচুর মুরগির মাংস খান। এটি কিন্তু একটি অস্বাস্থ্যকর প্রবণতা। খাবেন, তবে কম খাবেন।
ডা:অমিতাভ ভট্টাচার্য