নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ঘরে ঘরে জ্বর ও সর্দি কাশিতে কাবু শিশু থেকে বৃদ্ধ। নতুন করে বাড়ছে ভাইরাল ফিভারের দাপট। মুর্শিদাবাদের শহর থেকে গ্রাম প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই কেউ না কেউ জ্বরে কাবু। উপসর্গগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ধরা, ম্যাজম্যাজে ভাব এবং খাবারে অনীহা। চিকিৎসকদের মতে, মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ফলে এই জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ‘ভাইরাল মায়োসাইটিস’। যা নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
এই আবহাওয়া পরিবর্তনে অসংখ্য মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ ৩-৭ দিনের মধ্যেই সেরে উঠছেন, আবার অনেকেই ১০-১৪ দিন ধরে ভুগছেন। লাগাতার কাশি হচ্ছে। কাশি এতটাই যন্ত্রণাদায়ক যে রোগীরা ঘুমোতে পর্যন্ত পারছেন না। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাতেই কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
ভাইরাল জ্বরের পরই আচমকা পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান এবং হাঁটতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বহু শিশুর মধ্যে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ভাইরাল মায়োসাইটিস। বিশেষ করে ভাইরাল ইনফেকশন বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর শিশুদের মধ্যে এই ধরনের পেশির প্রদাহ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জার অন্যতম জটিলতা হিসেবেও মায়োসাইটিসের উল্লেখ রয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কৃষাণু দে বলেন, আমাদের কাছে যেসব শিশু আসছে, তাদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত। দুধের শিশু থেকে ১৭ বছরের কিশোর, কারও রেহাই নেই। যাদের হাসপাতালে ভরতি করতে হচ্ছে, তাদের দিকে বাড়তি নজর রাখতে হচ্ছে। এদিকে ভাইরাল সংক্রমণের পরেই পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাঁটতে পারছে না শিশুরা। ভাইরাল মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে জ্বর, সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার মতো সাধারণ ভাইরাল উপসর্গ দেখা যায়। কয়েকদিন পর জ্বর কমে যাওয়ার সময় বা তারপরেই শুরু হয় পায়ের পেশিতে তীব্র ব্যথা। শিশু হাঁটতে চাইছে না, খুঁড়িয়ে হাঁটছে কিংবা একেবারেই দাঁড়াতে পারছে না—এমন উপসর্গও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় পেশিতে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গে শিশুদের মায়োসাইটিসের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নথিভুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে পেশির ক্ষতি গুরুতর আকার নিতে পারে।