সংবাদদাতা, বালুরঘাট: রবিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেল। দুই দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানি দুইই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অজানা কারণে হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের লরি পারাপার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হিলি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট এন্ড কাস্টম ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে এই ব্যাপারে নোটিশ করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কেউ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সঠিক কি কারণে বন্ধ তা এখনো পরিষ্কার নয়। ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির কথা অবশ্য জানিয়েছেন। তবে সূত্রের খবর, লরিতে ওভারলোড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুলিশের সাথে সমস্যা হয়েছিল। তার প্রতিবাদে এই ব্যবসা বন্ধ কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও বা হেক্কার সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল বলেন, কারো প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় রয়েছে। ব্যবসাতেও আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। তাই আপাতত ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে দুই দেশের ব্যবসা বন্ধ হয়ে থাকার জেরে লরি পারাপার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু লরি। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে গম, কাঁচা লঙ্কা, ভুসি ও পাথর রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি করে লরি বাংলাদেশে যায়। অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে বিস্কুট ও প্যাকেট জাতীয় খাবারের সামগ্রী ভারতে আসছে। তবে রপ্তানির থেকে আমদানির পরিমাণ তুলনামূলক কম রয়েছে। রবিবার সীমান্তে পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব জায়গাতে লরি আটকে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে তিক্ততার সম্পর্কে গত কয়েক বছরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে ব্যবসা। ফলে ব্যবসাতে মন্দা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দায় কার্যত ডুবতে বসছে হিলি সীমান্তের ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য। সম্প্রতি স্লট বুকিং এর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু হওয়াতে ব্যবসায় আরও মার খেতে হচ্ছে।
এরমধ্যেই হেক্কার নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। সম্প্রতি ওভারলোড দিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল পুলিশের সাথে। শনিবার পর্যন্ত আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। তবে নোটিস করে হেক্কার নতুন কমিটি আপাতত বাণিজ্য বন্ধ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশের হিলি ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার গ্রুপকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় কিছু কারণবশত হিলি পিছিয়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতির জেরে বাধ্য হয়ে আগামী ৩০ অগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।