নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: দেশবিদেশ থেকে আগত পরিযায়ী পাখির কলতানে ভরে উঠেছে রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস ও সংলগ্ন বনাঞ্চল। বিশেষ করে নজর কাড়ছে গ্লসি আইবিস, ইগ্রেটসের মতো প্রজাতিগুলি। এই অবস্থায় এবার পরিযায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধির আশা নিয়ে দুর্গোৎসবের আগে কুলিক পক্ষীনিবাস ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে পাখি গণনা শুরু হয়ে যাবে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে হতে চলা ওই সরকারি পাখি গণনার জন্য রায়গঞ্জ বনবিভাগের তরফে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। পক্ষীনিবাসের অভিজ্ঞ বনকর্মী এবং রায়গঞ্জ পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির যুক্তি, এবার বর্ষায় রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। শামুক, রকমারি পোকামাকড়, ছোটোমাছের মতো খাবারের যোগানও ছিল পর্যাপ্ত। সেজন্য নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই বিপুল সংখ্যায় পরিযায়ীরা আসতে শুরু করে কুলিক পক্ষীনিবাসে। তারজন্য উৎসাহ রয়েছে পর্যটকমহলেও।
গত দু’বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যায় দেখা পাওয়া গিয়েছে গ্লসি আইবিস প্রজাতির পরিযায়ীদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কুলিক পক্ষীনিবাসে হাজির ছিল ২৫১ গ্লসি আইবিস। পরের বছর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫০৬ পর্যন্ত গিয়েছে। এবছর সেই গ্লসি আইবিস সহ রকমারি প্রজাতির পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রত্যয় প্রকাশ করেছে রায়গঞ্জ বনবিভাগ। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত রায়গঞ্জের পক্ষীপ্রেমীরাও।
এদিকে, পাখি গণনা শুরুর আগে বিভিন্নস্তরে আলাপ-আলোচনা শুরু করে দিয়েছে বন দপ্তর। এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী কর্মী, পরিবেশপ্রেমী সংগঠন, পাখি পর্যবেক্ষক দলকে নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক করতে পারে রায়গঞ্জ বনবিভাগ। রায়গঞ্জের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা জানান, ২০২৩ সালে প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পরিযায়ীদের আগমন হয়। সেবার পক্ষীনিবাস ও তাঁর চারপাশের গাছে পাখির সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ১৪১। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৪ সাল থেকে সার্বিকভাবে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সেবছর ৯৬ হাজার ৭১৯ টি পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে পক্ষীনিবাসে। ২০২৫ সালে পরিযায়ী পাখির সর্বাধিক সংখ্যা ছিল এক লক্ষ ৫৮টির মতো। ওই বছর ওপেন বিল স্টর্কের সর্বাধিক সংখ্যা ছিল ৭১ হাজার ৩৮৯।
এছাড়াও কর্মরেন্ট সর্বাধিক ১০ হাজার ২৫৩, ইগ্রেটসের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৫৬, নাইট হেরনের সর্বাধিক সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৬৫। এবার গ্লসি আইবিসের সংখ্যা বাড়তে পারে। ডিএফও বলেন, গত দু’বছর ধরেই পাখি সংরক্ষণের ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দফায় দফায় পাখিদের জন্য জ্যান্ত মাছ, শামুক, ও জলাশয়গুলিতে জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার উপর আবহাওয়াও অনুকূল থাকায় সংখ্যা বেড়েছে বলে আমাদের প্রাথমিক অনুমান। তবে পাখিগণনা সম্পূর্ণ হলে এ ব্যাপারে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। নিজস্ব চিত্র