নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: মহানায়ক উত্তম কুমার ঝাড়গ্রামে একাধিকবার এসেছেন। অবিভক্ত মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামেই মরুতীর্থ হিংলাজের প্রথম শুটিং হয়েছিল। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ও আশপাশে সন্ন্যাসী রাজা, বাঘবন্দি খেলা, রাজবংশের মতো ছবির দৃশ্যগ্ৰহণ করা হয়েছিল। নাটক ও সিনেমাপ্রেমী এক রাজা ও মহানায়কের বন্ধুত্বের স্মৃতি আজও ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষ স্মরণ করবে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি।
নরসিংহ মল্লদেব ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির শেষ রাজা ছিলেন। অরণ্য অধ্যুষিত এই জেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। জঙ্গল ,পাহাড় ও নদী ঘেরা ঝাড়গ্রামে তাঁর উদ্যোগে বাংলা সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিল। উত্তমকুমারের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল রাজার। বন্ধু রাজার ডাকে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে বারবার এসেছেন। জেলায় শুটিং করতে এলে রাজ বাড়ির গেস্ট হাউসে উঠতেন মহানায়ক। সেইসময় শুটিং দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন রাজবাড়ি চত্বরে ছুটে আসতেন। লোকমুখে আজও সেসব গল্পগাথা ছড়িয়ে আছে। তবে জঙ্গল এলাকার এক রাজার সঙ্গে ও বাংলা সিনেমার মহানায়কের বন্ধুত্বের কথা অজানাই থেকে গিয়েছে। নরসিংহ মল্লদেব যুবা বয়সেই সিনেমার প্রতি আগ্ৰহী হয়ে উঠেছিলেন। টালিগঞ্জে এক সিনেমা পার্টিতে প্রথম উত্তম কুমারের সঙ্গে নরসিংহদেবের পরিচয় হয়। অচিরেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। উত্তম কুমারকে জেলায় শুটিং করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। ঝাড়গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন মহানায়ক। রাজবাড়ি , সরডিহা , বিনপুরের নদী এলাকায় সিনেমার শুটিং করেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মরুতীর্থ হিংলাজ, বাঘবন্দি খেলার মতো কালজয়ী সব ছবির শুটিংয়ের জায়গাগুলি কিন্তু এখনও পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। রাজবাড়িতে অবশ্য উত্তমকুমার স্মৃতি চিহ্নগুলি সংরক্ষিত রয়েছে।
উত্তম কুমারের পছন্দের খাবারের রেসিপি লিপিবদ্ধ রয়েছে রাজবাড়িতে। রাজবাড়ির উত্তরপুরুষ বিক্রমাদিত্য মল্ল দেব বলেন, বড়োদের মুখে নরসিংহ মল্লদেবের সিনেমা প্রোডাকশন হাউস গড়ে তোলার কথা শুনেছি। সম্ভবত সেই সূত্রেই মহানায়কের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। আজীবন দু’জনের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্ম শতবর্ষ। শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি আমরা স্মরণ করব।