সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ৭৫ গ্রামের মাছের পরিবর্তে রোগীর পাতে পড়ছে মাত্র ২৫ গ্রামের মাছের টুকরো! পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে এসে রোগীদের খাবারের গুনগত মানের এমন করুণ দশা দেখলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে শনিবার আলোচনার পরই রোগীদের খাবার সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেন পরিদর্শনকারী দলের সদস্যরা। এমনকি প্রয়োজনে ওই সংস্থার বিল আটকে রাখার মতো পদক্ষেপও নিতে বলা হয়েছে বলে মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানাগিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, যে কয়েকটা বিষয়ে কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে সেবিষয়ে বয়েছে। চেষ্টা করছেন। কাজকর্ম ভালই হচ্ছে। এমআরআই এর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে নীতিগত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।
শনিবার পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত গর্ভমেন্ট মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা সহ চারজনের একটি প্রতিনিধিদল। মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রোগীদের সুবিধা অসুবিধারও খোঁজ নেন ওই পরিদর্শক টিম। সেখানেই রোগীদের খাবারের গুনগত মানের অত্যন্ত খারাপ অবস্থার বিষয়টি উঠে আসে। মাছের টুকরোতে ওজনে বড়োসড়ো কারচুপির পাশাপাশি অনান্য খাবারের গুণগত মানও খারাপ বলে অভিযোগ। এমনকি অনেক সময়ই পরে মাছ দেওয়া হবে বলে ডাল, ভাত দিয়েই রোগীর খাবারের পর্ব শেষ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসার পরই রোগীদের খাবার সরবরাহকারী ওই সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন পরিদর্শকদলের সদস্যরা।
অন্যদিকে, কলেজের সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসেব জরুরি বিভাগের পরিকাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরিদর্শক ওই টিম। ইমারজেন্সি বিভাগে অবজারভেশন ওয়ার্ডে রোগীদের ট্রলি সহ ঢোকার ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি ৯ টি বেডে মনিটর রয়েছে মাত্র ২টি। সবকটিতেই মনিটর থাকার কথা। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানাগিয়েছে, এদিন হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসের কলেজের অধ্যক্ষ, এমএমভিপি সহ অনান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা।
বৈঠকে কলেজে এমআরআই ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষক কম সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সিনিয়র চিকিৎসকদের কলেজে উপস্থিতি সন্তোষজনক না থাকার বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিনের পরিদর্শন ও বৈঠকের বিষয়ে এমএসভিপি সুকলোম বিষয়ী বলেন, কলেজের কাজের বিষয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। কত অস্ত্রোপচার হয়েছে, রোগীদের সংখ্যা কত, মেটারন্যাল ডেথ কত সব কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এমআরআই না থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কী কী সুবিধা আছে কী পরিকাঠামো নেই সেসমস্ত বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরুলিয়ায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একটি ক্যাথ ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিনই পোষ্ট করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মোট ১৫টি জায়গায় এই ক্যাথল্যাবের জন্য অনুমোদন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। হার্টের চিকিৎসায় পুরুলিয়ার মতো প্রত্যন্ত জেলাতে এই পরিষেবা বিশেষ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।