Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

শহরে সাপের সংখ্যা বাড়ছে কেন?

আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্পাঘাতের চিকিৎসার রিসোর্স পার্সন ডাঃ দয়ালবন্ধু মজুমদার।

শহরে  সাপের সংখ্যা বাড়ছে কেন?
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্পাঘাতের চিকিৎসার রিসোর্স পার্সন ডাঃ দয়ালবন্ধু মজুমদার

Advertisement

 রাজ্যের বিপজ্জনক সাপ
 রাজ্যে প্রায় ১২৫ ধরনের সাপ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে বিশেষভাবে চার ধরনের সর্পাঘাতে সবচাইতে বেশি প্রাণ যায়। এগুলি হল— গোখরো, কেউটে, কালাচ এবং চন্দ্রবোড়া।
 নার্ভ ধ্বংসকারী বিষ (নিউরোটক্সিক) ও রক্ত ধ্বংসকারী বিষ (হেমোটক্সিক)
 গোখরো, কেউটে ও কালাচের বিষ মূলত স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতাকে আক্রান্ত করে। ফলে আক্রান্তর কথা বলা, কোনো কিছু গেলা বা জিভ নাড়াতে অসুবিধা হতে পারে। ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশিও দুর্বল হয়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। তবে কালাচের কামড় অনেক সময় বোঝাই যায় না। ব্যথা, ফোলা বা কামড়ের স্পষ্ট দাগ নাও থাকতে পারে। মশার কামড়ের মতো মনে হতে পারে। তারপর পেট ব্যথার কথা শুনে চিকিৎসকরাও অনেকসময় ধন্দে পড়েন।  
রক্ত ধ্বংসকারী বিষ রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। কামড়ের জায়গা, দাঁতের গোড়া বা অন্যত্র অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে কিডনির গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। চন্দ্রবোড়ার কামড়ে সাধারণত ব্যথা ও ফোলা থাকে। এর বিষ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
 কালাচ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
 রাতে মশারি ছাড়া মেঝেতে শুয়ে থাকা ব্যক্তিকে অনেক সময় কালাচ কামড়ায়। ঘুমের মধ্যে কামড় দেওয়ায় রোগী বুঝতে পারেন না। সকালে পেটব্যথা, গলাব্যথা, শরীর ঝিমঝিম, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা চোখের পাতা নেমে আসার (শিবনেত্র বা টসিস) মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। 
 কত দ্রুত হাসপাতালে? 
 মেনে চলতে হবে ‘রুল অব হান্ড্রেড’। সাপে কাটার ১০০ মিনিটের মধ্যে রোগীর শরীরে ১০০ এমএল (১০ ভায়াল) অ্যান্টি ভেনাম সিরাম প্রবেশ করাতেই হবে। দ্রুত রোগীকে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। মোটরবাইকে বসিয়েও নিয়ে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন বাইক চালাবেন, রোগী মাঝে বসবেন এবং পিছনে আর একজন ব্যক্তি রোগীকে ধরে বসবেন।
 শহুরে সাপ, গ্রাম্য সাপ!
 কিছুদিন ধরে কলকাতা ও ছোটো-বড়ো শহরের নানা প্রান্তে সাপ বেরনো ও দংশনের ঘটনায় নাগরিক সমাজের একাংশ বিস্ময় প্রকাশ করছেন! 
ভাবখানা এমন যেন সর্পকুলের বাসস্থান বুঝি শুধুই গ্রাম! শহরেও সাপের উপযুক্ত বাসস্থান আছে। অনেক পরিত্যক্ত বাড়ি, পুরনো কোয়ার্টার, ঝোপ-জঙ্গল আছে! আছে ছোটো বড়ো ড্রেন, জলাশয়। 
ফলে শহরের বাসিন্দাদেরও সাপ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে গ্রামবাসীদের মতোই। 
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ