Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

মাকড়সাও কি উড়তে পারে?

পৃথিবীর একেবারে আদি স্থলচর প্রাণীদের অন্যতম মাকড়সা

মাকড়সাও কি উড়তে পারে?
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পৃথিবীর একেবারে আদি স্থলচর প্রাণীদের অন্যতম মাকড়সা। নানা প্রজাতির মাকড়সা ছড়িয়ে রয়েছে সারা বিশ্বজুড়েই। তাদের কেউ জাল বোনে। আবার কেউ লাফিয়ে শিকার ধরে। কিন্তু ওরা কি আকাশে উড়তে পারে? প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলবে— না। কারণ, ওদের তো আর ডানা নেই যে, পাখির মতো আকাশে ভেসে বেড়াবে! কিন্তু প্রকৃতি তো বিচিত্র পাঠশালা। এখানে পরতে পরতে বিস্ময় লুকিয়ে। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, এমন কিছু প্রজাতির মাকড়সা রয়েছে, যারা দিব্যি উড়তে পারে।

Advertisement

ভেঙেই বলা যাক। যে কৌশলে ওই মাকড়সারা উড়তে পারে, তাকে বলা হয় ‘বেলনিং’। আর মাকড়সা তাদের রেশমের  মতো সুতো বাতাসে ভাসিয়ে দেয়। এর মাধ্যমেই তারা আকাশে ভেসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। 
এই তো কিছুদিন আগেই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় এমন ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, যা দেখে অনেকেই অবাক। ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের ওই ছবি দেখে মনে হয়, পুরো মাঠ-ঘাট যেন বরফে ঢাকা। সূর্যের আলোয় চকচক করছে। ভালো করে দেখলে বোঝা যায়, আসলে মাকড়সার জালের চাদরে ঢাকা পড়েছে সব কিছু। আর এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই এমন হয়। বিশেষ করে বৃষ্টি ও বন্যার পর। বাসস্থান হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করে মাকড়সার দল। লক্ষ লক্ষ মাকড়সার গণ ‘বেলনিং’-এর পর মাঠে, ঝোপঝাড়ে রেশমের মতো সুতোর জাল ছড়িয়ে পড়ে। সেটাকেই স্থানীয়রা বলেন, ‘অ্যাঞ্জেলস হেয়ার’। ঘাসের শীষের উপরে বা পাঁচিলের উঁচু পোস্টে উঠে মাকড়সারা বাতাসে তাদের রেশমের সুতো ভাসিয়ে দেয়। তারপর বাতাস তাদের অন্যত্র পৌঁছে দেয়। এ যেন প্রাকৃতিক ‘প্যারাসুটিং’। 
এ তো গেল অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ অঞ্চলের কথা। বেলনিং পদ্ধতিতে মাকড়সারা তাদের লম্বা রেশমের সুতোয় ভর করে সমুদ্র জুড়েও উড়তে পারে। আর এই কৌশল কাজে লাগিয়ে মাকড়সা শিকারিদের কাছ থেকে নিজেকে বাঁচায়। নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধায় বা খাদ্য ও বাসস্থানের খোঁজে তারা অন্যত্র পাড়ি জমায়। মানে এককথায় এটা এক ধরনের অভিযোজন। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া। ছোট্ট বন্ধুরা, বেলনিং কৌশলকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রায় আড়াই মাইল উঁচুতে বা উপকূল থেকে সমুদ্রে হাজার মাইল দূরেও ওই বিশেষ প্রজাতির মাকড়সারা যেতে পারে। তা কীভাবে সম্ভব হয়? একশো বছরের বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বাতাসই তাদের বয়ে নিয়ে যায়। যদিও অনেকেই তা মানতে নারাজ ছিলেন। শেষপর্যন্ত এই রহস্যের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।  কয়েক বছর আগে  বিখ্যাত একটি জার্নালে এব্যাপারে গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছে, বাতাসে উপযুক্ত তড়িৎ ক্ষেত্র রয়েছে কি না, তা বুঝতে পারে মাকড়সা। আর তা কাজে লাগিয়েই ভেসে বেড়ায় ওরা। ওই গবেষণা বলছে, মৌমাছির পর দ্বিতীয় প্রাণী হিসেবে মাকড়সা এই তড়িৎ ক্ষেত্র অনুভব করতে পারে। গবেষক দলের প্রধান এরিকা মোর্লে জানিয়েছেন, গবেষণাগারে বায়ু চলাচলহীন কিন্তু ছোট্ট তড়িৎ ক্ষেত্র যুক্ত বাক্সে রাখলে তারা উড়ানের জন্য তৈরি হয়। এমনকী উড়তেও পারে। তড়িৎ ক্ষেত্র চালু হলেই মাকড়সার দেহের সংবেদনশীল লোমগুলি নড়াচড়া শুরু করে। ঠিক যেমন স্থির তড়িতের সংস্পর্শে আমার মাথার চুল দাঁড়িয়ে যায়। 
আমাদের বায়ুমণ্ডলকে বিশাল তড়িৎ ক্ষেত্র বলা যায়। উপরের অংশে থাকে পজিটিভ বা ধনাত্মক আয়ন। ভূপৃষ্ঠে নেগেটিভ বা ঋণাত্মক আয়ন। মাকড়সারা এই স্থির তড়িৎ ক্ষেত্রকেই কাজে লাগায়। তারা বাতাসে ভেসে থাকতে রেশমি সুতো ছাড়ে। স্থির তড়িৎ ওই সুতোকে বিকর্ষণ করে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। অনেকটা যেমন দু’টি চুম্বকের সমমেরু একে অপরকে দূরে সরিয়ে দেয়। মাকড়সা তাদের পেটের গ্রন্থি থেকে রেশমি সুতো বের করে। সেই সুতোয় সামান্য চার্জ জমা হয়। একই ধরনের আয়নের সঙ্গে বিকর্ষণের কারণে ওই সুতোগুলি পাখার মতো ছড়িয়ে পড়ে। অনেকটা প্যারাসুটের মতো। এভাবে তড়িৎ ক্ষেত্র ও বাতাসের সাহায্যে পাড়ি দিতে পারে বিশেষ প্রজাতির মাকড়সারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ