নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ১ এপ্রিল থেকেই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প কার্যকর হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পরই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর সময় যেভাবে আবেদনের হিড়িক পড়েছিল, এবার যুবদের মধ্যেও সেই উন্মাদনা দেখা যাবে বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন। তাঁদের অনুমান, প্রাথমিক পর্যায়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১০লক্ষ আবেদন জমা পড়তে পারে। প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে শিবির আয়োজনের নির্দেশ এসেছে। ফলে জেলার ২২টি বিধানসভার প্রতিটি শিবিরেই প্রথমদিকে আবেদনকারীদের ব্যাপক ভিড় হবে।রাজ্য বাজেটে ১৫ আগস্ট থেকে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু করার কথা বলা হয়েছিল। সেজন্য নির্বাচনের পর আবেদনপত্র গ্রহণে শিবির শুরুর কথা ছিল।
কিন্তু, এবার সময় এগিয়ে আসায় জেলার প্রশাসনিক মহলে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আবেদনপত্র গ্রহণে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে শিবির বসবে। প্রকল্পের জন্য বিজ্ঞাপনও দেবে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে স্কলারশিপ বাধা হবে না। স্কলারশিপ ছাড়া অন্য কোনো প্রকল্পে যুক্ত না থাকলেই ভাতা মিলবে।ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকার চমক দিয়েছে। এই বাজেটে একাধিক নতুন ঘোষণা করা হলেও যুব সাথী প্রকল্পই সবচেয়ে বড় চমক হিসাবে সামনে এসেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক কোটি যুবক-যুবতীর হাতে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে যাবে। ২১-৪০বছর বয়সি বেকারদের প্রতি মাসে ১৫০০টাকা করে ভাতা দেবে রাজ্য সরকার।রাজ্য সরকার ঠিক করেছে, ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই শিবির হবে। দুয়ারে সরকারের মতোই এসমস্ত শিবির কাজ করবে। শিবিরে তিনটি বিভাগ থাকবে। যুব সাথী প্রকল্পের জন্য ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগ থাকবে। এছাড়া, এই শিবিরে আরও তিনটি পরিষেবা দেওয়া হবে। খেতমজুর ও ভূমিহীন চাষিদের জন্য একটি বিভাগ এবং মাইনর ইরিগেশন অ্যান্ড পাওয়ার বিভাগ থাকবে। ছুটির দিন বাদে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির চলবে। আবেদনকারীদের হাতে সঙ্গে সঙ্গে রিসিপ্ট দেওয়া হবে।জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এসআইআরের মধ্যেই এই শিবির শুরু করতে হবে। সুতরাং বাড়তি সরকারি কর্মী প্রয়োজন। এজন্য আমরা পরিকল্পনা শুরু করেছি। বিধানসভাভিত্তিক একটি করে শিবির হলে বহু মানুষের ভিড় হবে। কোথায় কোথায় শিবির করা হবে-সেই জায়গা নির্বাচন করা হচ্ছে।বহরমপুরের যুবক শ্রীকান্ত মণ্ডল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা ভেবেছেন। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য মুখিয়ে আছি। আমার ছোটো একটা দোকান আছে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছি। সেইসঙ্গে আমার বয়সও কম আছে। তাই আবেদন করলে ভাতা পাব বলেই মনে হচ্ছে।