নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরায় বালি পাচারের বিরুদ্ধে টানা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর। দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, ব্লক প্রশাসন ও পুলিসের সাহায্যে বালি মাফিয়াদের ‘টাইট’ দেওয়া হবে। গত শুক্রবার তালডাংরা বিডিও অফিসে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে ব্লক প্রশাসন, ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর ও তালডাংরা থানার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলাজুড়েই বালি পাচার বন্ধে অভিযান চলছে। আমরা তালডাংরা ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করেছি।
তালডাংরার পাঁচমুড়ায় মাফিয়ারা স্কুলমাঠ দখল করে বালি মজুত করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ছেলে ওই চক্রের মাথায় রয়েছে। বাবার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সে বেআইনিভাবে সরকারি জায়গায় পাহাড়প্রমাণ বালি মজুত করেছিল। ‘বর্তমান’-এ এবিষয়ে খবর প্রকাশিত হতেই প্রশাসনের পাশাপাশি শাসকদলের অন্দরেও তোলপাড় শুরু হয়। পুলিস, ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় স্থানীয় থানা ও বিএলএলআরও দপ্তরের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বালি কারবারে মদত দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বিডিও অফিসের আধিকারিকরাও এই কারবার কড়া হাতে দমনের আভাস দেন। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বও প্রথম থেকেই বেআইনিভাবে বালি মজুতের ঘটনার তদন্ত দাবি করে আসছে। পাঁচমুড়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীমকুমার দে বলেন, দল ওই ধরনের কোনও কাজ বরদাস্ত করে না।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বেআইনি বালি কারবারের উপর নজরদারি চালাতে প্রতিটি ব্লকে তিন সদস্যের টিম রয়েছে। ওই টিমে বিডিও, বিএলএলআরও ও স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক(ওসি অথবা আইসি) থাকেন। সপ্তাহে একবার ওই টিমের মিটিংয়ের কথাও রয়েছে। তবে কোনও কোনও ব্লকে অনেকদিন ধরে বৈঠক হয় না বলেও আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন।
তালডাংরায় বেআইনি বালি কারবারের পর্দা ফাঁস হতেই ব্লকস্তরের আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেন। তালডাংরার পাশাপাশি অন্য ব্লকেও বৈঠক ডাকার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসকদলের কয়েকজন হেভিওয়েট নেতৃত্ব বেআইনি বালি কারবারে মদত দিচ্ছে। তালডাংরায় কোনও বৈধ খাদান ও বালি মজুতের প্রশাসনিক অনুমতি নেই। ওই হেভিওয়েটদের মদতেই জয়পাণ্ডা নদী থেকে বালি তুলে সেখানকার পাঁচমুড়ায় মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু, ওই নেতানেত্রীরাই আবার দলের কাছে ভালো সাজতে মাঝেমধ্যে বালি কারবারের ইস্যুতে ‘অতিসক্রিয়তা’ দেখাচ্ছে। তারা পুলিস-প্রশাসনের আধিকারিকদের উপর প্রকাশ্যে দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছে। তাদের এই ভূমিকায় নিচুতলার সৎ আধিকারিকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বালি পাচারের ইস্যুতে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অতিসক্রিয়তা আমাদের নজরে পড়েছে। তবে আমরা তাতে খুব একটা আমল দিচ্ছি না। আমাদের মনে হচ্ছে, নিজেদের উপর থেকে সন্দেহের তির অন্যদিকে ঘোরাতেই তারা আধিকারিকদের ‘বলির পাঁঠা’ করার চেষ্টা করছে। -নিজস্ব চিত্র