Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হুকিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান, চারমাসে জরিমানা বাবদ আয় ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ

তাতে বণ্টন সংস্থার লোকসান হচ্ছে। এই লোকসান থেকে লাভের মুখ দেখতেই নিয়মিত হুকিং বিরোধী অভিযান চলছে

হুকিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান, চারমাসে জরিমানা বাবদ আয় ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাত্র চার মাসে পূর্ব মেদিনীপুরে হুকিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা আদায় করল বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। গত ১এপ্রিল থেকে ৩১জুলাই পর্যন্ত এই জেলায় ২৯টি সাপ্লা‌ই অফিস এলাকায় হুকিং চালানোর ঘটনায় মোট ১০১৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তারমধ্যে ৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। এই জেলার পটাশপুর, অমর্ষি, খেজুরি, নন্দীগ্রাম এবং পাঁশকুড়া প্রভৃতি সাব স্টেশন এলাকায় হুকিংয়ের ঘটনা বেশি। তাতে বণ্টন সংস্থার লোকসান হচ্ছে। এই লোকসান থেকে লাভের মুখ দেখতেই নিয়মিত হুকিং বিরোধী অভিযান চলছে। তাতেই পাইকারি হারে এফআইআর এবং জরিমানা করার ঘটনা ঘটছে।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুর বণ্টন সংস্থার মোট চারটি ডিভিশন আছে। তার অধীনে ২৯টি সাপ্লাই অফিস আছে। ওইসব অফিসে একজন করে স্টেশন ম্যানেজার থাকেন। হুকিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁরা অভিযান চালাচ্ছেন। এছাড়াও, তমলুক এবং কাঁথিতে দু’টি সিকিউরিটি অ্যান্ড লস প্রিভেনশন সেল(এসঅ্যান্ডএলপি) টিম আছে। ওই টিমে একজন করে বণ্টন সংস্থার ডিভিশনাল ম্যানেজার, অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি এবং টেকনিক্যাল স্টাফ আছেন। ওই সেলের পক্ষ থেকেই ধারাবাহিক অভিযান চলছে।
গত ১এপ্রিল থেকে ৩১জুলাই পর্যন্ত চারমাসে পটাশপুর সাপ্লাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জরিমানা বাবদ সংগৃহীত হয়েছে ২৩ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা। খেজুরি সাপ্লাই এলাকায় ওই সময়ে মোট ১২৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাতে ৪০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। আদায় হয়েছে ৩৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা।‌এছাড়া, মারিশদা সাপ্লাই এলাকায় ওই সময়কালে ৫২টি এফআইআর হয়। তাতে ৪৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভগবানপুর সাপ্লাই এলাকায় মোট ৪৮টি এফআইআর হয়েছে। জরিমানা বাবদ ২২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। পাঁশকুড়া সাপ্লাই এলাকায় ৫০টি এফআইআর হয়। আদায় হয়েছে ১৮ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা।
হুকিং বিরোধী অভিযানে বণ্টন সংস্থার ম্যানেজার ও ইঞ্জিনিয়াররা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্পর্শকাতর জায়গায় পুলিসকে সঙ্গে রাখা হচ্ছে। হুকিংয়ে ব্যবহৃত তার বা‌঩জেয়াপ্ত করার পর লোড অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং জরিমানা দুই-ই হচ্ছে। অবস্থাপন্নদের মধ্যেও অনেকে হুকিং করে বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী, ময়না, পাঁশকুড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় একই ঘটনা নজরে আসছে। হুকিংয়ের ফলে নন্দীগ্রাম, খেজুরি, অমর্ষি, পটাশপুর, ভগবানপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় বণ্টন সংস্থার লোকসান হচ্ছে। লোকসান কমাতে সংস্থার শীর্ষস্তর থেকে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। যেকারণে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় লাগাম টানতে চাইছে বণ্টন সংস্থা।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পূর্ব মেদিনীপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার শুভেন্দু ভড় বলেন, এই জেলায় বেশকিছু জায়গায় হুকিংয়ের ঘটনা ঘটছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। গত চারমাসে এক হাজারের বেশি এফআইআর হয়েছে। তার সঙ্গে জরিমানা বাবদ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা আদায় হয়েছে।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ