সংবাদদাতা,মেদিনীপুর: হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে গত জুলাই মাসে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪৩২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য্য হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। এমনটাই জানিয়েছে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা। এক আধিকারিক বলেন, জেলার মেদিনীপুর, খড়্গপুর, বেলদা ও ঘাটাল বিভাগে এই অভিযান চালানো হয়। এই সব বিভাগের ডেবরা, কেশপুর, মাদপুর, খড়্গপুর গ্রামীণ, পিংলা, সবং এলাকায় চুরির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই সব এলাকায় গ্রামের পর গ্রাম হুকিং করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। হুকিং করে চলছে এসি, জলের পাম্পও। অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর পুনরায় হুকিং করা হচ্ছে। ওই অধিকারিক বলেন, কোনওভাবেই হুকিং আটকানো যাচ্ছে না। নিত্যনতুন এলাকায় হুকিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। পঞ্চায়েতকে নিয়ে সচেতনতা শিবির করার কথা ভাবা হয়েছে।
সংস্থার আধিকারিক বলেন, যাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার আছে তারাও হুকিং করছে। যাতে বিদ্যুতের বিল কম আসে তার জন্য এই ব্যবস্থা। দেখা যাচ্ছে বাইরের বিদ্যুৎবাহী তার থেকে হুকিং করে যেমন বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, তেমনই মিটার থেকে বাইপাস করেও বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে। বাইরে থেকে হুকিং করে সংযোগ নিলে খালি চোখে ধরা যায়। কিন্তু মিটার থেকে বাইপাস করে বিদ্যু্ৎ সংযোগ নিলে তা সহজে ধরা যায় না। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ কমে গেলে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা যায় মিটার থেকে বাইপাস করে সংযোগ নেওয়া হয়েছে।
ওই অধিকারিক বলেন, বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। করা হচ্ছে সচেতনা শিবিরও। কিন্তু এই প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে সংস্থার কর্মীদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ চুরি করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলেও পড়ছে গ্রাহকরা। মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। তবুও চুরি থামছে না। ওই আধিকারিক বলেন, বর্ষার সময় বিদ্যুৎ হুকিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে। বাসিন্দাদের সচেতন করা হলেও কোনও লাভ হচ্ছে না। হুকিং করেই চলেছে। অনেক এলাকায় দিনের বেলা হুকিং খুলে দেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যার সময় ফের লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক এলাকায় বাসিন্দারা এতটাই বেপরোয়া তারা দিনের বেলাও হুকিং করে বিদ্যুৎ নিচ্ছে। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ কর্মীরা এলাকায় অভিযানে গেলে তাদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।