Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান, বহু দোকান বন্ধ করে চম্পট মালিকরা

জাল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান, বহু দোকান বন্ধ করে চম্পট মালিকরা
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কালনা মহকুমার কয়েকটি দোকানে জাল ওষুধ ঢুকছে বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা দু’দিন আগে ওই এলাকায় যান। কিন্তু, তাঁরা যাওয়ার আগেই কয়েকটি দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। কী কারণে তড়িঘড়ি তাঁরা দোকান বন্ধ কর চম্পট দিল তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, জাল ওষুধের বিরুদ্ধে জেলায় লাগাতার অভিযান চলছে। কালনা মহকুমায় বেশি জাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। সেই মতো অভিযান চালানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু, ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি দোকান হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া ওই দোকান গুলি আমাদের নজরে রয়েছে। আবার সেখানে অভিযান চালানো হবে।

Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোট এবং বর্ধমান শহরের কয়েকটি দোকানও তাদের নজরে রয়েছে। বেশকিছু ওষুধের দোকানে বৈধ নথিপত্র নেই। সেই সব দোকানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, কালনা মহকুমায় জাল ওষুধ বিক্রির বিষয়টি নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। কারবারিদের কাছে তা ‘নবদ্বীপের ওষুধ’ নামে পরিচিত। দোকানদাররা গ্রাহকদের কাছ জানতে চায়, তারা কম না বেশি দামের ওষুধ কিনবেন। গ্রামের বহু বাসিন্দা বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাঁরা কম দামে নকল ওষুধ কিনে নিয়ে যান। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোল অভিযান চালাচ্ছে। 
স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সরকার বেশকিছু ওষুধ নিম্নমানের বলে ঘোষণা করেছে। ওই ওষুধগুলির তালিকা প্রতিটি দোকানে ঝোলানোর জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু, অনেক দোকান সেই নিয়ম মানছে না। আবার অনেকে নিজেদের অজান্তে জাল ওষুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সভাধিপতি বলেন, ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকদের আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পূর্ব বর্ধমানে সবচেয়ে বেশি ওষুধের দোকান রয়েছে। বাইরের জেলা থেকেও অনেকই ওষুধ কিনতে এখানে আসেন। কালনা মহকুমাতেও বহু ওষুধের দোকান রয়েছে। সেখান কে বা কারা জাল ওষুধ ঢোকাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা উচিত। 
ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দপ্তরে কর্মীর অভাব রয়েছে। সব জায়গায় সেই কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। বিগত দু’দিনে ১৫টি দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই দোকানগুলি থেকে জাল ওষুধ পাওয়া যায়নি। তবে তথ্য পাওয়ার পর কালনা মহকুমার দিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনও ওষুধ নিয়ে সন্দেহ হলেই সরাসরি স্বাস্থ্যদপ্তরে  অভিযোগ জানানো যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ