নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রধান শিক্ষিকার কান ধরে ওঠবসের ভিডিও কাণ্ডের প্রতিবাদে আগামীকাল, শুক্রবার জলপাইগুড়িতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘটের ডাক দিল শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চ। বুধবার সংগঠনের তরফে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, স্কুলে হাজির থাকা সত্ত্বেও ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতে পারেননি বলে এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকারা। তাছাড়া স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কীভাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার হাতে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্কুলে এত বড় ঘটনা ঘটলেও প্রধান শিক্ষিকা কেন তাঁদের বিষয়টি জানালেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না সহ শিক্ষিকারা। প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসের অবশ্য বক্তব্য, সহ শিক্ষিকাদের একাংশ স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতির কথায় চলছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের ওই ঘটনার কথা বলে কী লাভ হত?
দু’দিন আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কান ধরে ওঠবসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় ওই শিক্ষিকাকে ওঠবস করাচ্ছেন। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
এদিন সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকারা একযোগে বলেন, ওই ফুটেজ গত ৪ জানুয়ারির। ওইদিন স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক ছিল। স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি এসেছিলেন। সহ শিক্ষিকারাও ছিলেন। কিন্তু এত বড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ আমরা কিছু জানতে পারলাম না, এটাই অবাক লাগছে। সহ শিক্ষিকা মধুপর্ণা রায় বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা আমাদের জানাননি। তাছাড়া আমাদের প্রশ্ন, স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে গেল কীভাবে? অপর সহ শিক্ষিকা রিতালি ঘোষের ক্ষোভ, প্রধান শিক্ষিকা নিজের মর্জিমতো স্কুল চালাচ্ছেন। সহ শিক্ষিকাদের কোনও মতামত নেন না তিনি। শিক্ষিকা দেবারতি বসুর বক্তব্য, যতদূর শুনেছি, স্কুলে ১২৫ জন পড়ুয়াকে ভর্তি নিয়ে পরিচালন কমিটির সভাপতির সঙ্গে প্রধান শিক্ষিকার মধ্যে বিবাদ হয়। বিষয়টি তো প্রধান শিক্ষিকা আমাদের জানাতে পারতেন। তাছাড়া তিনি কান ধরে ওঠবস করবেন কেন? এটা তো স্কুলের অসম্মান। তবে ভিডিও ফুটেজ সত্যি বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। যদিও এআই দিয়ে ওই ভিডিও বানানো হয়েছে বলে দাবি সৈকতের।
জলপাইগুড়ি শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চের আহ্বায়ক মৌসুমী বসু এদিন বলেন, প্রধান শিক্ষিকাকে অপমানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শহরের কদমতলায় বিক্ষোভ সভা হবে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি অমিত সাহার বক্তব্য, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না। ১৪ তারিখ প্রতিটি স্কুলে স্বাভাবিক পঠনপাঠন হবে।
নিজস্ব চিত্র।