Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সল্টলেকের ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্নায় পাকাপাকি নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

গরম গরম টোস্ট হোক বা চটজলদি চাউমিন। প্রাতরাশ থেকে লাঞ্চে হরেক আইটেম। বিকালে চপ, বেগুনি, পকোড়া

সল্টলেকের ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্নায় পাকাপাকি নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: গরম গরম টোস্ট হোক বা চটজলদি চাউমিন। প্রাতরাশ থেকে লাঞ্চে হরেক আইটেম। বিকালে চপ, বেগুনি, পকোড়া। সেক্টর ফাইভ বা সল্টলেকের অফিসপাড়ার ফুটপাতে সবই মিলত গরম গরম। কিন্তু এবার সেসবে ছেদ পড়তে চলেছে! এখন থেকে সল্টলেকের আইটি পাড়ায় আর মিলবে না হাতে গরম ধোঁয়া ওঠা খাবার! কারণ, ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে খাবার তৈরিতে পাকাপাকিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। 

Advertisement

সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন থেকে শুরু করে শহর কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে সেক্টর ফাইভের ফুটপাতের ধারের খাবারের দোকানগুলিতে এলপিজি জ্বালিয়ে রান্নায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউন ভেন্ডিং কমিটি (এনডিআইটিএ)। সম্প্রতি একটি বৈঠক করে কমিটি। সেই বৈঠকের পর জানিয়ে দেওয়া হয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল আরবান স্ট্রিট ভেন্ডিং রুলস ২০১৮-এর ১৪(৩) ধারা ও সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলির কথা মাথায় ফুটপাতের স্টলগুলিতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কোনো ধরনের প্লাস্টিক ও ত্রিপলের ব্যাবহার করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাস্তায় বাসন মাজা-ধোয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এনডিআইটিএ কর্তৃপক্ষ। 
কমিটির এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্থানীয় হকারদের একাংশ। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি। আবেদনকারী হকারদের তরফে দাবি করা হয়, যাবতীয় জনস্বাস্থ্যবিধি ও অগ্নিবিধি মেনে তাঁরা গ্যাসের ব্যবহার করেন। টাটকা ও গরম খাবারের জন্যই ক্রেতারা দোকানে ভিড় জমান। ফলে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হলে হকারদের রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাবে। পালটা রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, বর্তমানে সরকারের কাছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বড়োসড়ো মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে রাস্তায় গ্যাসের ব্যবহার হলে অগ্নিকাণ্ডের সবরকম ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ রাস্তার পাশের প্রায় প্রতিটি দোকানে ছাউনি হিসাবে টারপুলিন ব্যবহার করা হয়। যা সহজদাহ্য এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য আদর্শ। পাশাপাশি রান্নার যাবতীয় সরঞ্জাম রাস্তার পাশে জড়ো করে রাখার কারণে রাস্তার একাংশ বন্ধ হয়ে থাকছে। রাজ্যের তরফে আরও দাবি করা হয়, হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও তাঁরা ফুটপাত ছাড়তে নারাজ। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিটির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে সল্টলেকের ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্নায় পাকাপাকিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ