সংবাদদাতা, করিমপুর: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ফের সিজারিয়ান ডেলিভারি চালু হওয়ায় খুশি এলাকা মানুষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণে বেশ কিছুদিন আগে থেকে এখানে সিজার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গর্ভবতী মহিলাদের বেশিরভাগকে অন্যত্র রেফার করা হতো। এলাকার প্রসুতি মহিলা ও তাঁদের পরিবারকে প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হতো। সন্তানসম্ভবা বহু মহিলাকে নিয়ে ছুটতে হতো চল্লিশ কিমি দূরে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে, পঁচাশি কিমি দুরের কৃষ্ণনগর বা সত্তর কিমি দুরের বহরমপুরের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে। অথচ একসময় সপ্তাহের তিনদিন এই হাসপাতালে সিজার প্রসব করা হতো। এলাকার মানুষ জানান, সিজারের জন্যই বহু টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ঝকঝকে অপারেশন থিয়েটার। তারপর একবার নয়, এখানে বেশ কয়েকবার সিজার চালু হয়েও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৩ সালে তৈরি বর্তমান এই গ্রামীণ হাসপাতালের উপর করিমপুরের আশপাশের ও মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ নির্ভর করেন। ২০০৯ সালে প্রথম অপারেশন থিয়েটারে একবার সিজার চালু হয়েছিল। সেই সময় ৩৪ জন প্রসূতি মায়ের সিজার করা হয়েছিল। তারপরে কয়েকবার সিজার চালু হয়েছে আবার বন্ধও হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচজন মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য এখানে আসেন। হাসপাতালে সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে সাধারণ প্রসব ছাড়া এলাকার বাকি প্রসুতি মায়েদের দূর-দূরান্তের হাসপাতালে রেফার করা হয়। এক চিকিৎসক জানান, এলাকার মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন করে এই হাসপাতালে সিজার চালু করা হয়েছিল। সাধারণ প্রসবের পাশাপাশি একজন অ্যানাস্থেটিস্ট ও দু’জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা সপ্তাহের তিনদিন সিজার করা হতো। পরবর্তীতে লকডাউনের সময় আবার এই হাসপাতালে সিজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ফের তা চালু হলেও আবারও কয়েকবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, অনেক সময় চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসব হওয়ার কথা ভেবে গর্ভবতী মায়েদের এখানে ভর্তি করেন। কিন্তু তারপরে বেশ কয়েকবার বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তখন শেষ মুহূর্তে বাইরে রেফার করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকত না। ফলে রোগীর অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হতো।
এব্যাপারে হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, গর্ভবতী রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ স্বাভাবিক প্রসব হয়। চিকিৎসকের অভাবে মাঝে সিজার বন্ধ ছিল, তবে এখন আবার তা শুরু হয়েছে। গত সাতদিন ধরে কোনও মহিলাকে সিজারের জন্য রেফার করা হয়নি। সিজারের জন্য হাসপাতালে এখন সমস্ত রকম সুব্যবস্থা রয়েছে। এখন আর এই নিয়ে রোগীদের অযথা চিন্তা ও হয়রানির কোনও আশঙ্কা নেই।