অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(সিএএ)-এর আবেদনকারীদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই চলছে ধারাবাহিক শুনানি। বাংলাদেশ ও ভারতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সকাল থেকেই আবেদনকারীরা হাজির হচ্ছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাঁদের নথি যাচাই ও ব্যক্তিগত শুনানি পর্ব। কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট সমর গোয়ালদার বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০জন আবেদনকারীর শুনানি করা হচ্ছে।’ শুনানিতে থাকছেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরাও। আবেদনকারীদের অধিকাংশের দাবি, তাঁরা প্রায় তিনমাস আগে আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নভেম্বরের শেষদিকে তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। শুনানি শেষ হলে প্রায় একমাসের মধ্যেই তাঁরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পাচ্ছেন। সবমিলিয়ে আবেদন থেকে শংসাপত্র হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শেষ হতে চার-পাঁচ মাস সময় লাগছে।
সম্প্রতি আবেদনকারীদের শুনানির ডাক কবে আসবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসআইআরের কাজে নথিপত্রের অভাবে যদি কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, সেক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এত অল্প সময়ে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কারণ, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার দিন ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার নদীয়া জেলার এসআইআরের কাজ পরিদর্শনে এসে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, সিএএর সঙ্গে এসআইআরের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, সিএএ আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এটি সম্পূর্ণভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিষয়।
রাজ্যজুড়ে এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কোনওভাবেই যাতে বৈধ ভোটার বাদ না পড়ে, তা সুনিশ্চিত করাই সকলের লক্ষ্য। এই সুযোগেই সিএএ কার্যকর করতে তৎপর হয়েছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার। এব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই দুই জেলায় হিন্দু উদ্বাস্তু এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি বলেই নাগরিকত্ব প্রদানে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপির তরফেও নদীয়া জেলাজুড়ে সিএএ শিবির করে মানুষকে দিয়ে আবেদন করানো হচ্ছে।
বিজেপির শীর্ষনেতারা ড্যামেজ কন্ট্রোলে গিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করছেন–এসআইআরে কোনওভাবে হিন্দুদের নাম বাদ গেলে সিএএ’তে আবেদন করে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। সম্প্রতি বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার কৃষ্ণনগরে এসে বলেছিলেন যে, হিন্দু শরণার্থীদের জন্য সিএএ রয়েছে। তাঁদের ভয় পেতে হবে না। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এসআইআর আতঙ্কের জেরে সীমান্ত এলাকায় তড়িঘড়ি সিএএ’তে আবেদন করার হিড়িক পড়েছে। কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসে বর্তমানে যাঁরা শুনানির জন্য আসছেন, তাঁদের বেশিরভাগই আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে আসা এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা তিনমাস আগে আবেদন করেছিলাম, এখন ডাক পাচ্ছি। আর নাগরিকত্বের কার্ডও নাকি একমাসের মধ্যেই হাতে চলে আসবে।’ রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এসআইআরের মাধ্যমে বাদ পড়া ভোটাররা কবে সিএএ’তে আবেদন করবেন? তাঁদের নাগরিকত্বের কার্ড পেতে কতটা সময় লাগবে? অনেকের ধারণা, হাতে কার্ড পেতে ২০২৬সালের বিধানসভা নির্বাচন চলে আসবে। সেক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা বেশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসে শুনানিতে ডাক। -নিজস্ব চিত্র