তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: একের পর এক সোনার দোকানে ডাকাতি, চুরি থেকে লুটের ঘটনা ঘটেই চলেছে শিলিগুড়ি শহরের লাইফ লাইন হিলকার্ট রোডে। ঘটনার পর দুষ্কৃতীদের নাগাল পেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে পুলিশের। কোনওমতে দুষ্কৃতীদের একাংশকে ধরতে পারলেও লুটের সামগ্রী পুরোপুরিভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরের জুনে হিলকার্ট রোডের একটি সোনার দোকানে দিনেদুপুরে ডাকাতির পর পুলিশ একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা সামনে এনেছিল। যার নাম দেওয়া হয়েছিল সেফটি অ্যালার্ম। সেই ডিভাইস ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন পুলিশের কর্তারা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বল্প খরচায় সেই ডিভাইস নিজেদের ব্যবসায়িক কেন্দ্রে লাগানোর জন্য সকলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে তা যে একেবারে পুরোপুরিভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশের কর্তারা। বারেবারে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলেও সেই প্রকল্প কাজে আসেনি বলে জানান তাঁরা। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে ফের তাঁরা নিজেদের সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করতে উদ্যোগী হবেন।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, আমরা সমস্ত ব্যবসায়ীকে এরকম ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানিয়েছিলাম। তবে দু-একজন বাদে কেউই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেননি। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনৎ ভৌমিক বলেন, আমাদের সঙ্গে এবিষয়ে পুলিশের আলোচনা হয়েছিল। অনেককে এই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কেউ কেউ লাগিয়েছিল। তবে যারা এই ব্যবস্থা নেননি তাঁদের ফের এবিষয়ে আগ্রহী করতে আমরা উদ্যোগ নেব।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে একের পর এক সোনার দোকান, শোরুম থেকে ছোট বড় সোনার দোকান রয়েছে। শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম শহর হওয়ায় এখানে অপরাধের জন্য বারবার দুষ্কৃতীরা ওঁত পেতে থাকে। চলতি বছরে একেরে পর এক এই ধরনের ঘটনা ঘটায় পুলিশ ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন জানায় যে একটি উন্নত নিরাপত্তা পন্থা ব্যবহার করা হবে। একটি সেফটি অ্যালার্ম দোকানে লাগানো হলে যে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা হতেই একবার বোতাম টিপলেই সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় হুটার বাজতে শুরু করবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সেই আওয়াজ পেলেই দ্রুত এলাকাতে পৌঁছবে পুলিশ। মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ব্যবস্থা যে কেউ লাগিয়ে নিলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট ঘটা করে শুরু করা হয়েছিল। এমনকী, পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়িতে একটি আলাদা কন্ট্রোল রুমও তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা নিয়ে উৎসাহ দেখালেও পরে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এই ডিভাইস লাগাতে চাননি বলে দাবি পুলিশের। ফলে সমস্যা সেই তিমিরেই রয়েছে। পুলিশের নজরদারি এড়াতে পারলেই বড়সড় চুরি, ডাকাতি অনায়াসেই চলছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।