নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কোলাঘাটে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গাড়িতে তুলে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভূপতিনগর থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম মুক্তিপদ দাস ও বিশ্বজিৎ দাস। মুক্তিপদর বাড়ি ভূপতিনগরের শিমুলদাঁড়ি গ্রামে। বিশ্বজিতের বাড়ি ওই থানার পূর্ব বায়েন্দা গ্রামে। মুক্তিপদ লরি, প্রাইভেট গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স মিলিয়ে মোট আটটি গাড়ির মালিক। তারই একটি গাড়ি চালাত বিশ্বজিৎ। মঙ্গলবার কোলাঘাট থানার পুলিস ভূপতিনগরে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। সেইসঙ্গে একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কোলাঘাট থানার ওসি রাজু কুণ্ডু বলেন, ২৯জুলাই জিঞাদা বাজারে মেমারির এক ব্যবসায়ীকে ডেকে গাড়িতে তুলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। শেষমেশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মোট দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৯জুলাই কোলাঘাট থানার জিঞাদা বাজারে বম্বে হাইওয়েতে মেমারির ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ব্যবসায়ী কৃষানু সামন্তকে গাড়িতে জোর করে তুলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। দীঘার নতুন হোটেলে ইন্টেরিয়রের কাজের বরাত দেওয়ার নামে দুষ্কৃতীরা অনলাইন অ্যাপে কৃশানুবাবুর সঙ্গে পরিচয় করে। তারপর গত ২৪জুলাই ভগবানপুর থানার গোয়ালাপুকুরে কৃষানুবাবুকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। দু’টি হোটেলে ওই কাজ করার জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়ার নামে গত ২৯জুলাই তাঁকে ফের কোলাঘাটে ডেকে পাঠানো হয়। সেইমতো ওই ব্যবসায়ী কোলাঘাটে এলে তাঁকে জিঞাদা বাজারে ডেকে এনে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়। তাঁর কাছে তিন লক্ষ টাকা ছিল। সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। ওই গাড়ির পিছনেই কোলাঘাটের আবগারি দপ্তরের ওসির গাড়ি চলে আসায় তিনি ধাওয়া করেন। ওই অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি খড়্গপুরের দিকে ছোটানো হচ্ছিল। দুষ্কৃতীরা ভয় পেয়ে কৃশানুবাবুকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। তাজপুর ও দীঘায় নতুন হোটেল অন্দরসজ্জার কাজে বরাত দেওয়ার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে ছিনতাইয়ের নিখুঁজ পরিকল্পনা করত ধৃতরা। অ্যাডভান্স টাকা দেওয়ার নামে কোলাঘাটে ডেকে তাঁদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হতো। গত ১৫জুলাই নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানার চণ্ডীরামপুর গ্রামের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ব্যবসায়ী সন্তু সাহাও একইভাবে তিন লক্ষ টাকা খোয়ান। তিনি পাঁশকুড়া থানায় এনিয়ে এফআইআর করেছেন। দুষ্কৃতীরা অন্য জেলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত। অপারেশনের জন্য কোলাঘাট ও পাঁশকুড়ায় বম্বে হাইওয়েকে বেছে নিত। ধৃত মুক্তিপদ ছিনতাইয়ের জগতে পা রাখার পর অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে পুলিসের বক্তব্য। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জোগাড় করছে পুলিস।