সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রবিবার ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চল নিরিষা গ্রামে শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে জনবহুল এলাকায় দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে ঝাড়খণ্ডে চম্পট দেয়। দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সুদীপ বাস্কি নামে এক পাথর ব্যবসায়ীর। তাঁর বাড়ি রামপুরহাটের সুলঙ্গা গ্রামে। ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সাধারণত পাথর শিল্পাঞ্চলে সপ্তাহ শেষে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে টাকা লেনদেন হয় রবিবার। নিরিষা গ্রামের পেট্রল পাম্পের সামনে একটি চায়ের দোকানই ওই টাকা লেনদেনের ঠিকানা। সেই মতো এদিনও ওই চায়ের দোকানের বাইরে বেঞ্চে বেশ কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে টাকা লেনদেন করছিলেন। সকাল ১১টা নাগাদ হঠাৎ কয়েকটি বাইকে চেপে দুষ্কৃতীরা এসে পিস্তল দেখিয়ে বলে ‘ব্যাগ দে। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন টাকার ব্যাগ দিয়ে দেয়। এরই মধ্যে সুদীপবাবু একজনকে ধরে ফেলে। তখনই তাঁর বুকে দু’টি গুলি করে অন্য এক দুষ্কৃতী। এরপর অন্য ব্যবসায়ীদের টাকার ব্যাগগুলি নিয়ে বাইকে দ্রুত ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সুদীপবাবুকে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, বছর ছয়েক আগে এই পেট্রল পাম্পে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হানা দিয়ে টাকা ছিনিয়ে পালিয়েছিল।
সুদীপবাবুর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ভাই বোনের মধ্যে বড় সুদীপবাবু। পাথর খাদানে অংশীদারির পাশাপাশি তাঁর দু’টি ডাম্পার চলত। বছর দু’য়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়। ন’মাসের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। মৃতের বাবা নলেজ বাস্কি বলেন, ছিনতাই করতে এসে দুষ্কৃতীরা ছেলেকে গুলি করে খুন করে দিল।
চায়ের দোকানের মালিক রাজু মাল বলেন, প্রথমে দোকানের বাইরে দু’টি ফায়ার হয়। এরপরই দেখি একজনের বুকে গুলি করে কয়েকটি ব্যাগ নিয়ে বাইকে চেপে চলে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পাঁচটি বাইকে ১০জন দুষ্কৃতী এসেছিল। কারও মুখ কাপড়ে ঢাকা, কেউ আবার হেলমেট পরেছিল। আর এক প্রত্যক্ষদর্শী নেকসাদ শেখ বলেন, প্রত্যেকের হাতেই পিস্তল ছিল। তার মধ্যে একজনের হাতে দু’টি। সকলের ব্যাগ কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। সুদীপবাবু একজনকে ধরে ফেলায় তাঁকে গুলি করে এক দুষ্কৃতী।
আর এক প্রত্যক্ষদর্শী সুলঙ্গা গ্রামের গাড়ির মালিক গৌতম সরেন বলেন, চায়ের দোকানে মোবাইলে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেই সময় বাইকে চেপে দুষ্কৃতীরা এসে ব্যাগ দে বলতে থাকে। সুদীপবাবুর কাছে কোনও টাকার ব্যাগ ছিল না। সে দুষ্কৃতীদের একজনকে ধরে ফেলেছিল। তখন অপর এক দুষ্কৃতী এসে তাঁর বুকে দু’টি গুলি করে। দোকানে থাকা পাথর ব্যবসায়ী কালীকুমার হালদার বলেন, ওরা আমার বুকে পিস্তল লাগিয়ে দু’টি পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। ওই মুহূর্তেই ওরা শূন্যে দু’-তিনটে গুলি চালায়। পরে এক ব্যবসায়ীর বুকে গুলি করে। আমাদের অনুমান, ওরা মাওবাদী।
পাথর ব্যবসায়ী মুন্না শেখ বলেন, ঘটনার মিনিট কুড়ি আগেই সুদীপবাবুর সঙ্গেই ছিলাম। তিনি বলেন, ওর গ্রামের কিছুজন তাঁকে মারব বলে হুমকি দিচ্ছে বলে সুদীপবাবু জানিয়েছিল। এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। তাঁরা পাম্পের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র