Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনলাইনে সোনায় বিনিয়োগের নামে প্রতারণা ঝাড়গ্রামে, ৭ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী

সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি এবার অনলাইনে সোনায় বিনিয়োগের ফাঁদ পেতেও প্রতারণা শুরু হয়েছে। যা নিয়ে জেলার পুলিস মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনলাইনে সোনায় বিনিয়োগের নামে প্রতারণা ঝাড়গ্রামে, ৭ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি এবার অনলাইনে সোনায় বিনিয়োগের ফাঁদ পেতেও প্রতারণা শুরু হয়েছে। যা নিয়ে জেলার পুলিস মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গোপীবল্লভপুর থানার এক ব্যবসায়ী ধাপে ধাপে অনলাইন সোনা কেনাবেচার সংস্থায় ৭ লাখ টাকার উপর বিনিয়োগ করেছিলেন। সর্বস্ব খুইয়ে ঝাড়গ্রাম সাইবার থানায় অভিযোগ করেন। জেলা সাইবার ক্রাইম বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম সাইবার ক্রাইম বিভাগের আধিকারিক সব্যসাচী ঘোষ বলেন, গত বছর থেকে অনলাইন স্বর্ণ ক্রয়বিক্রয় সংস্থার নামে প্রতারণার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গোপীবল্লভপুরের ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল ঋণ প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে অনলাইনে স্বর্ণ সংস্থার নামে প্রতারণা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বৈধ স্বর্ণ ক্রয়বিক্রয় কোম্পানির অনুকরণে ভুয়া ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগের টাকায় সোনা কেনা হয়েছে দেখানো হচ্ছে। বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের পর সোনা তোলার সময় প্রতারকরা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলে ইনস্টল করা অ্যাপগুলিও উধাও হয়ে যাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপীবল্লভপুর থানার ওই ব্যবসায়ী এমনই স্বর্ণ সংস্থায় প্রথমে প্রায় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। একটি অ্যাপ তাকে ইনস্টল করতে বলা হয়েছিল। বিনিয়োগের টাকায় সোনার কেনার তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে পাচ্ছিলেন। ধাপে ধাপে লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগও করেন। এরপরেই প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যবসায়ী গত মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা সাইবার ক্রাইম বিভাগের এক অফিসার বলেন, সাইবার প্রতারকরা সেবি রেজিস্ট্রিকৃত স্বর্ণ ক্রয়বিক্রয় সংস্থার নকল করে ভুয়ো ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ভেবে অনেকেই সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করছেন। আদতে সংস্থাটির কোনও অস্তিত্বই নেই। সংস্থার সার্টিফিকেট, লাইসেন্স আছে কি না তা যাচাইয়ে গাফিলতি থাকছে। যার ফলে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। সোনার লেনদেনের বিস্তারিত রেকর্ড, যার মধ্যে মূল্যায়ন শংসাপত্র, ঋণ চুক্তি ও রসিদ কাছে রাখতে বলা হচ্ছে। তদন্তের ক্ষেত্রে এই রেকর্ডগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অনলাইন সোনা কেনাবেচায় যুক্ত শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, আরবিআই নির্দেশ অনুযায়ী স্বর্ণ বিনিয়োগকারী সকল সংস্থাকে কেওয়াইসির  নিয়ম মেনে চলতে হয়। পোর্টফোলিও অডিট করতে হয়। সেবির মতো  সংস্থার রেজিস্ট্রিকৃত কি না, তাও ভালো করে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা থাকলে প্রতারিত হবার ঝুঁকি থাকে না। বিনিয়োগ করার আগে সংস্থার সঠিক তথ্য যাচাই সবার আগে জরুরি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ