Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্গাপুজোর মুখেও ব্যবসা জমেনি মঙ্গলাহাটে অর্ধেক পোশাকই বাক্সবন্দি, হতাশ ব্যবসায়ীরা

এবার পুজোর মুখে মার খেয়েছে ব্যবসা। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের সবার মুখেই একই সুর।

দুর্গাপুজোর মুখেও ব্যবসা জমেনি মঙ্গলাহাটে  অর্ধেক পোশাকই বাক্সবন্দি, হতাশ ব্যবসায়ীরা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এবার পুজোর মুখে মার খেয়েছে ব্যবসা। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের সবার মুখেই একই সুর। পুজোর কেনাকাটাকে ঘিরে তাঁদের দাবি, ব্যবসায় প্রায় ৬০ শতাংশ লোকসান হয়েছে এবার। আর মাত্র দেড় সপ্তাহ বাদে দুর্গাপুজো। শেষবেলায় বিক্রিবাটা কতটা উঠবে, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা। এখনও মঙ্গলাহাটে পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের ভিড় সেভাবে চোখে পড়েনি। দোকানিদের দাবি, বেশ কয়েক বছর ধরেই কমতে শুরু করেছে ব্যবসা। হাওড়ায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অঙ্কুরহাটি থেকে সরস্বতী ব্রিজ পর্যন্ত একের পর এক আধুনিক হাট গড়ে ওঠার পর মঙ্গলাহাটের ব্যবসা পড়তির দিকে।

Advertisement

পুজোর আগের দু’মাস মঙ্গলাহাটে তুঙ্গে থাকে ব্যবসা। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্রিশগড় ছাড়াও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা কাপড়ের সম্ভার তুলতে আসেন এখানে। মহালয়ার এক মাস থেকেই বিভিন্ন জেলার খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ঢল নামে। ১২টি হাট বিল্ডিংয়ের বড়-মাঝারি ব্যবসায়ী তো বটেই, ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসা ছোট ব্যবসায়ীরাও দুর্গাপুজো ও ভাইফোঁটাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত স্টক তোলেন। পুজোর চেনা ভিড়ের ছবিটা এবছর যেন উধাও। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের দাবি, জাতীয় সড়কের ধারে তৈরি হওয়া আধুনিক হাটগুলিতে বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন। উল্টোদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা অনেকেই অবশ্য আসতে পারেননি এবার। ফলে এবার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট থেকেও নতুন ডিজাইনের পোশাক খুব একটা ঢোকেনি মঙ্গলাহাটে। ব্যবসায়ীরা যে সমস্ত পোশাকের স্টক তুলেছিলেন, তার ৫০ শতাংশ এখনও বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে বলে দাবি। জানা গিয়েছে, অন্যান্য বছর পুজোর আগে প্রতি সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার বিক্রিবাটা হয় মঙ্গলাহাটে। চার সপ্তাহ মিলিয়ে মোট ১০০ কোটি টাকার উপর ব্যবসা হয়। সেই জায়গায় চলতি বছরে এক একটি সপ্তাহে টেনেটুনে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলি। 
হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত ও সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, ‘পুজোর ব্যবসার উপর মঙ্গলাহাটের অর্থনীতি বড় অংশ নির্ভর করে। লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের ঘরে রোজগার বাড়ে। কিন্তু এবছর প্রত্যেকেই হতাশ।’ চলতি সপ্তাহে হুগলি, দুই বর্ধমান, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া থেকে খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মঙ্গলাহাটে এলেও সেই সংখ্যা অনেকটাই কম। মন্দের ভালো, শিশু ও মহিলাদের পোশাকের চাহিদা খানিকটা বেশি। ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের কথায়, ‘পুজোর বাজারের উপরেই ভাইফোঁটা ও শীতকালীন ব্যবসা নির্ভর করে। এখন মহাজনের দেনা শোধ করব কীভাবে, বুঝতে পারছি 
না।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ