Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালিক, কর্মীদের মারধর প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট, আরামবাগের বিভিন্ন রুটে দুর্ভোগে যাত্রীরা

বাসের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

মালিক, কর্মীদের মারধর প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট, আরামবাগের বিভিন্ন রুটে দুর্ভোগে যাত্রীরা
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বাসের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার আরামবাগে স্থানীয় রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তার জেরে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীদের অনেকেই। এদিন দুপুরে আরামবাগ থেকে বন্দর ২৪ নম্বর রুটে অনেক যাত্রীকেই অটো, টোটোতে করে যাতায়াত করতে দেখা যায়। বাস মালিক সংগঠনের দাবি, মারধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এই ঘটনায় এদিন আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। আরামবাগ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement

বাস মালিকদের দাবি, আরামবাগ বাস স্ট্যান্ডের ভেতরে বাস পার্কিং করার জন্য নির্দিষ্ট চ্যানেল রয়েছে। এদিন সকালে আরামবাগের একটি রুটের বাসের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জেরে সংশ্লিষ্ট রুটের বাসের মালিক কর্মচারীরা চ্যানেল পরিবর্তনের কারণ জানতে যান। পাশাপাশি তার প্রতিবাদও করেন। অভিযোগ, তার জেরেই কিছু দুষ্কৃতী বাসের মালিক ও কর্মচারীদের কয়েকজনকে মারধর করে। জখম বাস মালিক তথা সংগঠনের সম্পাদক মুন্সী মহম্মদ মুসা জখম হন। তাঁকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মী শেখ সফিকুল ইসলাম ওরফে মেজকা সহ তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এরপরই এদিন দুপুরে আরামবাগ থেকে বন্দর ২৪ নম্বর রুট ও গড়ের ঘাটের ১৬-২০ নম্বর রুটে মিনিবাসের একাংশ চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে সন্ধ্যায় বাস মালিক সংগঠনের তরফে আরামবাগ শহরের নেতাজি স্কোয়ারে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। খবর পেয়ে আরামবাগ থানার পুলিশ গিয়ে আশ্বাস দিলে অবরোধ তোলে বাস মালিক ও কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। অবরোধ হয় আরামবাগ বাস স্টযান্ডের সামনেও। যার জেরেজাতীয় সড়কে আটকে পড়ে বহু যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। আরামবাগ বাস মিনিবাস অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার সমিতির সম্পাদক মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবিতে এদিন বিভিন্ন রুটের বাস বন্ধ থাকে। দফায় দফায় অবরোধও হয়। 
জখম ১৬-২০ রুটের বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক বলেন, নির্দিষ্ট যে চ্যানেলে আমাদের বাস থাকতো, এদিন সকালে সেখানে গাড়ি দাঁড় করাতে দেয়নি মেজকা। কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর মেজকার সঙ্গে কথা বলা হয়। সেইসময় তিনি গালাগাল করেন। পরে তার কিছু দুষ্কৃতী এসে আমাদের মারধর করে। বাস মালিক, কর্মচারীদের বাস স্ট্যান্ডের ভেতরেই মারধর করা হয়। আমরা আইনের দ্বারস্থ হব। আরেক বাস মালিক বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, বাস দাঁড় করানোর চ্যানেল পরিবর্তন করার আগে আমাদের জানানো হয়নি। তাই এদিন সেই বিষয়ে জানতে গেলে মারধর করে দুষ্কৃতীরা। এক কর্মচারীকে মারধরের সময় ছাড়াতে গেলে আমিও আঘাত পাই। 
এই ব্যাপারে পাল্টা মেজকা বলেন, বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে বাসগুলি এসে চ্যানেলে ঢুকে পড়ে। সেখানেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। তরফলে বাস স্ট্যান্ডে যানজট হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বাসের চ্যানেল পরিবর্তন করা হয়। তাতে যানজটও কমেছে। আমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ মিথ্যে। ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না। 
আরামবাগ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মমতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনা খোঁজ নিয়ে দেখব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ