Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টোটোর দাপটে উঠে গিয়েছে বাসরুট, বিপাকে নিত্যযাত্রীরা

টোটোর উৎপাতে রানাঘাট শহরবাসী তো অতিষ্ঠ বটেই। এখন সেই টোটোর বাড়বাড়ন্তে বিপাকে রানাঘাট ২ ব্লকের হবিবপুর, তারাপুর সহ বিস্তীর্ণ অংশের হাজার হাজার মানুষ।

টোটোর দাপটে উঠে গিয়েছে বাসরুট, বিপাকে নিত্যযাত্রীরা
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: টোটোর উৎপাতে রানাঘাট শহরবাসী তো অতিষ্ঠ বটেই। এখন সেই টোটোর বাড়বাড়ন্তে বিপাকে রানাঘাট ২ ব্লকের হবিবপুর, তারাপুর সহ বিস্তীর্ণ অংশের হাজার হাজার মানুষ। কারণ সরকারি পরিভাষায় ‹অবৈধ› এই যানের কারণে ‹বিলুপ্ত› হয়ে গিয়েছে এই অঞ্চলের প্রাচীন বাসরুটই! রাস্তার ধারে ধারে যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলি হয়ে উঠেছে ধানের গোলা। বিপাকে পড়ে মানুষ প্রমাদ গুনছেন, চাইছেন বাস ফিরুক।  

Advertisement

এক সময়ে রানাঘাট থেকে বলাগড় ঘাট পর্যন্ত চলত বাস। রানাঘাট কলেজের সামনে থেকে ছেড়ে সেই বাস হবিবপুর, তারাপুর হয়ে পৌঁছত বলাগড় ঘাট। সব মিলিয়ে ১২ কিলোমিটার। গঙ্গাপাড়ে জেলার শেষপ্রান্তের মানুষের মূল শহরে আসার একমাত্র লাইফলাইন ছিল এই রানাঘাট-বলাগড়ঘাট রুটের বাস। কিন্তু টোটোর উৎপাতে আচমকাই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে রুটটি। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, নিয়ম কানুন তো দূরে থাক, রুটবিহীন টোটোর যত্রতত্র দাপাদাপিতে যাত্রী না পেয়ে রক্তাল্পতায় ভুগতে থাকে বাসগুলি। সেইসঙ্গে একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। ফলে লাগাতার লোকসানের মুখে পড়ে একে একে বন্ধ হয়ে গিয়েছে অবশিষ্ট সাতটি বাসই। আর এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন জেলার ওই শেষ প্রান্তে থাকা মানুষরা। কারণ শহরে আসতে গেলে টোটো পাল্টে পাল্টে হয়রান হয়ে যেতে হয় তাঁদের। রানাঘাট কলেজের বহু পড়ুয়া এক সময়ে এই বাসে যাতায়াত করতেন। সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাও। তাছাড়া টোটোর নির্দিষ্ট ভাড়া না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জুলুমবাজির অভিযোগও ওঠে। লাগাতার হয়রানির শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ চাইছেন, বাস ফিরুক রানাঘাট-বলাগরঘাট রুটে। নিয়ন্ত্রিত হোক টোটোর চলাচল। তারাপুরের বাসিন্দা নিতাই দাস বলেন, অর্ধেক টোটো যেতে চায় না। গেলে হবিবপুর হাই রোড পর্যন্ত যাবে। তারপর রানাঘাট যেতে গেলে অন্য গাড়ি। বাস থাকলে একেবারে যাওয়া যায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত এবং বাস চালু হওয়া দরকার। একই দাবি ওই চত্বরেরই বাসিন্দা বিনয় বিশ্বাস, শ্যামল রায়, বুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। 
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট মহকুমা বাস মালিক সমিতির মদন দাস বলেন, লোকসান করে আর কতদিন চালানো যায়। শেষ পর্যন্ত সাতটা বাস চলত। বাস মালিকরা বিক্রি করে দিয়েছেন সেগুলি। এত টোটো হলে আর বাস চলবে কী করে। প্রশাসন নজর না দিলে যা হয়।  এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে যাত্রী প্রতিক্ষালয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ