নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চালক ও কন্ডাক্টরদের বাড়ির কাছাকাছি স্থানে পোস্টিং হবে। এজন্য পুজোর মধ্যে তৈরি করা হবে নতুন ট্রান্সফার পলিসি। চালক ও কন্ডাক্টরদের মানসিক চাপ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়িতে এনবিএসটিসির একটি অনুষ্ঠানে একথা বলেন অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। একইসঙ্গে তিনি মহিলা যাত্রীদের অবজ্ঞা না করার নির্দেশ দেন। সরকারি নির্দেশ মেনে প্রতিটি স্টপে দাঁড়িয়ে মহিলাদের বাসে তোলা এবং জিরো ফেয়ার টিকিট প্রদান করতে বলেন।
এনবিএসটিসির চালক ও কন্ডাক্টরদের বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বহুদিনের। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। এতে চালক ও কন্ডাক্টরদের একাংশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিগম কর্তৃপক্ষের একাংশের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছেন অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী।
এদিন শিলিগুড়ি ডিপোতে মন্ত্রী বলেন, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এখানকার কর্মীদের জন্য কোনো ট্রান্সফার পলিসি ছিল না। সেই সময় কিছু তাঁবেদার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যখনতখন কর্মীদের যেখানে সেখানে বদলির নির্দেশ দিতেন। এখন সেসব হবে না। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ এটা আমাদের সরকারের স্লোগান। তাই ড্রাইভার ও কন্ডাক্টরদের মানসিক চাপ কমাতে তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হবে। কোচবিহারের কর্মীকে বহরমপুর কিংবা আলিপুরদুয়ারের কর্মীকে মালদহে পোস্টিং দেওয়া হবে না।
এদিন শিলিগুড়ি ডিপোতে চালক ও কন্ডাক্টরদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির করা হয়। তাতে মন্ত্রী ছাড়াও নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টার অশ্বিনী রায়, শিলিগুড়ির ডিভিশনাল ম্যানেজার শৌভিক দে প্রমুখ ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন নিগমের কোচবিহার, রায়গঞ্জ ও বহরমপুর ডিভিশনের অফিসার, চালক, কন্ডাক্টররা। বর্তমানে নিগমে চালক ও কন্ডাক্টরের সংখ্যা প্রায় ১৭০০।
মন্ত্রী বলেন, চালক ও কন্ডাক্টরদের বদলির জন্য সুষ্ঠু ও সুসংগঠিত নীতি তৈরি করা হবে। পুজোর মধ্যেই এই কাজ করা হবে। পুজোর পরই চালক, কন্ডাক্টররা এর সুফল পাবেন। এ ব্যাপারে এমডি’কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছি।
এরবাইরে মন্ত্রী চালক ও কন্ডাক্টরদের একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, এনবিএসটিসি ১৯৪৫ সালের সংস্থা। এত পুরনো সংস্থা আর কোথাও আছে কি না জানা নেই। বেসরকারি সংস্থার মতো এটাকেও লাভজনকভাবে চালাতে হবে। এজন্য চালক ও কন্ডাক্টররাই সংস্থার মেরুদণ্ড। সর্বদা আপনাদের পাশে আছি। যেকোনো সমস্যা হলে জানাবেন। আপনাদের সম্মানিক বৃদ্ধির বিষয়টিও দেখছি। তাই মানসিক দুশ্চিন্তা ছেড়ে বাসে উঠবেন। অহেতুক রেষারেষি করবেন না। সর্বদা সতর্কভাবে বাস চালাবেন। বাস চালানোর সময় ফোনে কথা বলবেন না।
একইসঙ্গে আনন্দময় বলেন, মহিলা যাত্রীদের কাছ থেকে অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও অভিযোগ গিয়েছে। মহিলাদের দেখলে বাস নির্দিষ্ট স্টপে দাঁড়াচ্ছে না। এতে মহিলারা অসম্মান বোধ করছেন। এটা যাতে না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি স্টপে দাঁড়িয়ে অন্যান্যদের পাশাপাশি মহিলাদেরও বাসে তুলতে হবে। তাঁদের জিরো ফেয়ারের টিকিট দিতে হবে। ওই টিকিটের ভিত্তিতেই সংস্থাকে ভরতুকি প্রদান করবে রাজ্য সরকার।