Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রশাসনের কড়া নিষেধ সত্ত্বেও নাড়া পোড়ানো চলছে রমরমিয়ে, দূষণে জেরবার বাঁকুড়াবাসী

সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বাঁকুড়ায় নাড়া পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

প্রশাসনের কড়া নিষেধ সত্ত্বেও নাড়া পোড়ানো চলছে রমরমিয়ে, দূষণে জেরবার বাঁকুড়াবাসী
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বাঁকুড়ায় নাড়া পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। কৃষিদপ্তর ও প্রশাসনের তরফে খরিফ মরশুম থেকেই বিষয়টি নিয়ে চাষিদের মধ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে। নাড়া পোড়ানোর ফলে বায়ু ও মাটি দূষিত হয় বলেও আধিকারিকরা চাষিদের সতর্ক করেছেন। কিন্তু, তারপরেও নাড়া পোড়ানো বন্ধ করা যায়নি। আগের তুলনায় তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হারভেস্টর মেশিনের সাহায্যে ধান কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা খড় চাষিরা পুড়িয়ে দিচ্ছেন। রবিশস্য চাষ হয় এমন জমিতে বেশি নাড়া পোড়ানো হচ্ছে। 

Advertisement

নাড়া পোড়াতে গিয়ে গত মরশুমে বাঁকুড়ায় দুর্ঘটনাও ঘটে। গতবার জেলার জয়পুর ব্লকে আমন ধান ওঠার পর এক চাষি নিজের জমিতে নাড়া পোড়াতে গিয়ে দগ্ধ হন। জমিতে চারপাশের খড়ে আগুন ধরে যাওয়ায় ওই চাষি মাঝে পড়ে যান। তাঁর দু’টি পা আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে যায়। জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাড়া পোড়াতে গিয়ে পাশের খেতের ধান অনেকে পুড়িয়ে ফেলেছে। তারপরেও ওই বেআইনি কাজ বন্ধ হয়নি। 
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, নাড়া পোড়ানো বেআইনি কাজ। এর থেকে বিরত থাকার জন্য চাষি ও খেতমজুরদের অনুরোধ করা হচ্ছে। কৃষিদপ্তরকে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নাড়া পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাতাস দূষিত হয়ে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট হয়।  কিন্তু বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অনেকে ওই বেআইনি কাজ করছেন। আমরা ফের বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালাব। ব্লকের সহকারি কৃষি অধিকর্তাদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে।
শালতোড়ার লাপাহাড়ী এলাকার চাষি বাপ্পা মণ্ডল বলেন, চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রবে খেতমজুররা মাঠে ধান কাটতে চাইছেন না। ফলে ছোট জমিতেও চাষিরা মেশিনের সাহায্যে ধান কাটছেন। খড় জমিতেই পড়ে থাকছে। আমার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরষে চাষ করার জন্য ট্রাক্টরের রোটার লাঙলে চাষ দিচ্ছিলাম। জমিতে পড়ে থাকা খড় লাঙলের ফলায় বারবার জড়িয়ে যাচ্ছিল। ফলে চাষ দিতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে জমির নাড়া ও খড় পুড়িয়ে দিতে বাধ্য হই।   
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নাড়া পোড়ানোর ফলে ব্যাপক বায়ু দূষণ হয়। ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে যায়। নাড়ার সঙ্গে খেতের মাটিও পুড়ে যায়। ফলে মাটির উপরিভাগে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। মাটিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে। ফসল উৎপাদনের জন্য খনিজের পাশাপাশি মাটিতে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্যও বজায় থাকাও জরুরি। আগুনে ওই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। মেশিনে ধান কাটার পর চাষিরা খড়ের অবশিষ্টাংশ জমি থেকে সরিয়ে কোনও এক জায়গায় স্তূপাকার করে রাখতে পারেন। তারসঙ্গে গোবর বা অন্যান্য জৈব পদার্থ মিশিয়ে পরের বছরের জন্য সার করা যেতে পারে। তাতে চাষিদের সুরাহা হবে। জমি উর্বরতা ফিরে পাবে। দূষণের হাত থেকে প্রকৃতি রক্ষা পাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ