


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের পর এবার নিটেও তাক লাগানো ফল করলেন বর্ধমানের সুভাষপল্লির বাসিন্দা রূপায়ণ পাল। একের পর এক সাফল্য এলেও তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েননি। লক্ষ্যে স্থির রয়েছেন। সেই কারণেই হয়তো নিটে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হওয়ার পরও তিনি বলছেন, আরও অনেকটা পথ যেতে হবে। তিনি রাজ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয়। রূপায়ণ ভবিষ্যতে নিউরো-সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। দিল্লির এইমসে পড়তে চান। নিউরো সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বহু পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হয়। টাকা খরচ করেও অনেক সময় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পান না। সেই কারণেই এই বিষয়ে তিনি পড়াশোনা করতে চাইছেন। চিকিৎসক হওয়ার পর বাংলায় ফিরে তিনি পরিষেবা দিতে চান।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি পঞ্চম হয়েছিলেন। সেইবার তাঁর কিছুটা আক্ষেপ ছিল। মনে হয়েছিল, আরও একটু পরিশ্রম করলে প্রথম স্থান দখল করা যেত। মাধ্যমিকে যেটা হয়নি, উচ্চমাধ্যমিকে তিনি সেটাই করে দেখালেন। সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রূপায়ণ। তিনি বলেন, পড়াশোনায় একগ্রতা দরকার। সেটা হলেই ভালো ফল করা যায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করার টার্গেট নিয়েছিলাম। সেইমতো প্রস্ততি নিতে থাকি। এইমসে পড়ার সুযোগ পাওয়া গেলে আমার ইচ্ছাপূরণ হবে। সেখানে ভালোভাবে গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সুবিধাও পাওয়া যায়।
রূপায়ণের বাবা রবীন্দ্রনাথ পাল ইংরেজির শিক্ষক। মা জয়শ্রী পালও হাইস্কুলের শিক্ষিকা। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, কোনওদিনই ছেলেকে পড়াশোনার জন্য বলতে হয়নি। বইয়ের প্রতি ওর অন্যরকম ভালোবাসা রয়েছে। ও শুধুই যে পাঠ্যবই পড়ে এমনটা নয়, গল্পও পছন্দের বিষয়। স্বামী বিবেকানন্দ, মা সারদাকে নিয়ে লেখা একাধিক বই ওর কাছে রয়েছে। মা জয়শ্রীদেবী বলেন, ও সময় পেলেই বাড়িতে বই নিয়ে বসে পড়ে। ওর জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সেবা করার মানসিকতাও রয়েছে।
রূপায়ণ বর্ধমানের সিএমএস হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলেন, পড়াশোনায় ওর মতো একাগ্রতা খুব কম ছাত্রেরই রয়েছে। সবাইকে সম্মান দিতে জানে। বিশেষ করে শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের আলাদা শ্রদ্ধা করে। রূপায়ণ বলেন, সাফল্যের পথে চলতে গেলে পরম্পরা মানতেই হবে। পাঠ্যবইয়ে সবকিছু লেখা থাকে না। অনেক কিছুই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে থেকে নিটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তারজন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার মূল্য পেয়েছি। আগামী দিনে চিকিৎসক হয়ে সমাজের সেবা করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য। সেখানে পৌঁছতে গেলে আরও অনেকটা পথ পেরতে হবে। -নিজস্ব চিত্র