Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রশ্নাতীত আনুগত্য! মঞ্চেই তৃণমূল নেতার পা ছুঁয়ে প্রণামে উদ্যত ভিসি, সরগরম বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

মঙ্গলবার তৃণমূল প্রভাবিত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির রক্তদান শিবির ছিল।

প্রশ্নাতীত আনুগত্য! মঞ্চেই তৃণমূল নেতার পা ছুঁয়ে প্রণামে উদ্যত ভিসি, সরগরম বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মঙ্গলবার তৃণমূল প্রভাবিত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির রক্তদান শিবির ছিল। মঞ্চে উপস্থিত দুই মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং স্বপন দেবনাথ। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, ছাত্রনেতা স্বরাজ ঘোষ সহ শাসক দলের একঝাঁক জনপ্রতিনিধি ও নেতা মঞ্চে রয়েছেন। মঞ্চে ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শঙ্করকুমার নাথ। কয়েকজন জনপ্রতিনিধির পর তিনি বক্তব্য রাখতে শুরু করলেন। শুরুতেই নেতাদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। শাসক দলের এক নেতাকে ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে ভূষিত করলেন। এক নেতাকে কেন ‘দাদা’ বলা হয়, সেই ব্যাখ্যাও তিনি দিলেন। উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে এরাজ্যের সংস্কৃতি যাতে বিলীন না হয়, সেই পরামর্শও দিলেন। এই পর্যন্ত তবুও ঠিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বক্তব্য থামিয়ে তিনি বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রণাম করতে এগিয়ে গেলেন। তিনি বলতে থাকেন, শোভনবাবুর নাম অনেক শুনেছি। ওঁর পা ধরে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে চাই। উপাচার্যের এহেন উদ্যোগে অস্বস্তিতে পড়লেন শোভনবাবু। তিনি ভিসির হাত ধরে প্রণাম না করার অনুরোধ করেন। তারপরও তিনি জোরাজুরি করতে থাকেন। অনেক অনুরোধের পর বর্ষীয়ান মন্ত্রী কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। মন্ত্রীর হাত ধরে আশীর্বাদ নেওয়ার ঢংয়ে তিনি বলেন, সারা দেশকে আমরা যেন সেবা করতে পারি। সারা বিশ্বে যেন আমাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারি। 

Advertisement

ভিসির এমন ‘আনুগত্য’ দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। মঞ্চে বসে থাকা শাসক দলের নেতারাও মুচকি হাসেন। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বড়দের প্রণাম করা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। ভিসি শৃঙ্খলার পাঠ দিতে চেয়েছেন। এদিনের মঞ্চে উপস্থিত থেকে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, সবাইকে আমি দাদা বলতে পারব না। যাঁর যা সম্মান, সেটা দিতে হবে। কেউ কেউ বঙ্কিমদা বলছেন। মাস্টারদাকে মাস্টার বলছেন। আসলে ওঁরা বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন।
এদিনের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তোপ দেগে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, যারা সমাজকে কলুষিত করছে, তাদের ভগবান ক্ষমা করবেন না। যারা দেশ শাসন করছে, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের এক বিন্দু রক্ত ঝরেনি। তাদের কোনও অবদান নেই। ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে অপরাধ বেড়ে চলেছে। তা নিয়ে ওদের কোনও হেলদোল নেই। কিন্তু বাংলায় কিছু হলে ‘রে রে’ করে ওঠে।
মঞ্চে উপস্থিত শহরের অন্যান্য তৃণমূল নেতারাও বিজেপিকে তোপ দাগেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ভিসির এই ভূমিকায় সকলে অবাক হয়ে যান। কর্মচারী সমিতির নেতা শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এদিন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁকে কেন সবাই ‘দাদা’ বলে ডাকেন, ভিসি তার ব্যাখা দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ