Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ: সিট গঠন

হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ১ জুলাই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির কাছ থেকে লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ: সিট গঠন
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিট গঠন করলেন লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার(২) প্রণব কুমার। হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ১ জুলাই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির কাছ থেকে লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে সিট গঠন করার জন্য নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তার প্রেক্ষিতে পাঁচজনের সিট গঠন করেছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার। তদন্তকারী দলে গোয়েন্দা দপ্তরের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার শ্যামল বিশ্বাস, অ্যান্টি ফ্রড বিভাগের ওসি সৈকত চন্দ্র, ভাঙর ইউনিটের ওসি সুষম মিত্র, অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর সন্দীপকুমার সাউ ও অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের সাব-ইন্সপেক্টর সুরজিৎ বণিককে রাখা হয়েছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছে সিআইডি। মামলার কেস ডায়েরি সিজেএম আদালতের হেফাজতে রয়েছে। তা পেতে সিজেএম আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন সিজেএম। কেস ডায়েরি সিটের তদন্তকারী অফিসারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বর্ধমান আদালতের জিআরওকে নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম। সিটে দুঁদে অফিসারদের রাখা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্ত এতে গতি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা। ২০২৪ সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বর্ধমান স্টেশন বাজার শাখায় জমা রাখা এক কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তুলে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা না পড়ে সেই টাকা ঠিকাদার সুব্রত দাসের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। বিষয়টি সামনে আসার পর তৎকালীন রেজিস্ট্রার সুজিত কুমার চৌধুরী বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু হয়। তদন্তে নেমে সিআইডি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় ব্যাঙ্কের অফিসারদের নামও জড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা সুব্রত ছাড়াও আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে বলে তদন্তে উঠে আসে। ১০ জনের বিরুদ্ধে সিআইডি আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে। যদিও মূল অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডল এখনও ধরা পড়েনি। ভক্তর আগাম জামিনের আবেদনের মামলায় বর্ধমানের জেলা জজ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের সম্পের্ক প্রশ্ন তুলে কড়া পর্যবেক্ষণ দেন। কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেফ কাস্টডিতে থাকা আমানতের শংসাপত্র ব্যাঙ্কে পৌঁছল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেলা জজ। সিআইডি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন আধিকারিক হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট ইডিকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্যাগকেও তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাগের অডিটে বহু তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ