Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি: ধৃত ভক্তকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিট

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ধৃত সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিট।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারি: ধৃত ভক্তকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিট
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ধৃত সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিট। তাকে এর আগে ১৪দিন হেফাজতে নিয়েছিল সিট। পরে অপর একটি মামলায় তাকে ছ’দিন হেফাজতে নেয় সিআইডি। সিআইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ধৃতকে ফের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে এদিন আদালতে আবেদন জানান সিটের তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। সংশোধনাগারে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। এদিন চতুর্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ধৃতের হাতের লেখা ও সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে সিট। টাকা তোলার চেষ্টার মামলায় যে জাল চিঠি ব্যাঙ্কে পেশ করা হয়েছিল তা জানিয়ে দিয়েছে সিআইডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী শেখ ইনামুল হকের মাধ্যমে ব্যাঙ্কে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই জমা রাখা ২১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার জন্য ভক্ত চিঠি পাঠিয়েছিল বলে সিআইডি আদালতে দাবি করেছে। হেফাজতে থাকাকালীন ভক্তকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগে যায় সিটের একটি দল। ধৃতের দেখানো জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ফিনান্স অফিসারের দু’টি নকল সিল বাজেয়াপ্ত করে সিট। এছাড়া বেশকিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

সিট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বর্ধমান স্টেশন বাজার শাখায় জমা রাখা ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তুলে নেওয়া হয়। টাকা তোলার জন্য ফিক্সড ডিপোজিটের সার্টিফিকেটের পাশাপাশি একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। টাকা তোলার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার সুজিতকুমার চৌধুরী ও ফিনান্স অফিসার সৌগত চক্রবর্তীর সই ছিল। সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা পড়েনি। রেজিস্ট্রার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে বর্ধমান থানা। পরে তদন্তভার সিআইডি হাতে নেয়। 
ঘটনায় ব্যাঙ্কের কয়েকজন অফিসারের নাম জড়ায়। এক অফিসার গ্রেপ্তার হন। সিআইডি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতিয়ে নেওয়া টাকা ঠিকাদার সুব্রত দাস সহ কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ১০জনের বিরুদ্ধে সিআইডি আদালতে চার্জশিট পেশ করে। তবে, মূল অভিযুক্ত ভক্তর হদিশ পায়নি সিআইডি। তাকে পলাতক দেখানো হয় চার্জশিটে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্থ তছরুপের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রণব কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সিট গড়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ