নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে আসছেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক। রাঘব বোয়ালদের জালে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিআইডি এই ঘটনায় প্রাক্তন ভিসি এবং অর্থদপ্তরের এক আধিকারিককে জেরা করেছে। তবে বড় কোনও মাথা ধরা পড়েনি। প্রায় দু’বছর ধরে তদন্ত চললেও মূল চক্রীরা অধরা থেকে যাওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশেই এই কেলেঙ্কারির তদন্তকারী অফিসার হিসেবে লালবাজারের এক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব নেবেন। সিআইডি তাঁকে সহযোগিতা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, সিআইডির দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। বহু কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে তারা পাকড়াও করেছে। নেপালে লুকিয়ে থেকেও দুষ্কৃতীরা রেহাই পায়নি। কিন্তু, এই কেলেঙ্কারির কিংপিন কেন এখনও অধরা থেকে গিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাকে লুকিয়ে থাকতে কে বা কারা সহযোগিতা করছে, সেটাও তদন্ত করা দরকার। সিআইডি অবশ্য আদালতের কাছে দাবি করেছে, এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরএক আধিকারিক বলেন, যেসব অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা গিয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা নদীয়া, কলকাতা এবং দিল্লির বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি কোনও একজন আধিকারিকের হেফাজতে থাকে। তিনি আলমারিতে তা গচ্ছিত রাখেন। সেখানে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকে।
আলমারির চাবি আধিকারিকের হেফাজতে থাকার কথা। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী কীভাবে সেটি বের করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ওই কর্মীকে তদন্তকারীরা কিংপিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সে দীর্ঘদিন ধরে ফেরার রয়েছে। সে আলমারির চাবি চুরি করে ওই নথি বের করেছিল, নাকি অন্য কেউ তাকে তা দিয়েছিল, সেটা নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারেননি। ওই কর্মীকে পাকড়াও করা গেলে সেই তথ্য সামনে আসত। কিন্তু, কেলেঙ্কারির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সে চম্পট দিয়েছে। সিআইডি তার আত্মীয়দের জেরা করেছে। আধিকারিকদের দাবি, তাকে পাকড়াও করা গেলে মূল চক্রীদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছনো যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ তদন্তে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি অবসর নিয়েছেন। তাঁর অবসরকালীন সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরএক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁর উত্তরে আধিকারিকরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।