Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জমা অতিরিক্ত চার্জশিট

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল সিট। এর আগে ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিআইডি।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জমা অতিরিক্ত চার্জশিট
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল সিট। এর আগে ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিআইডি। অতিরিক্ত চার্জশিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডলকে মূল চক্রী বলে উল্লেখ করেছে সিট। এছাড়াও ব্যাঙ্কের অফিসারদেরও দায়ী করা হয়েছে অতিরিক্ত চার্জশিটে। সোমবার সিটের তদন্তকারী অফিসার বর্ধমান সিজেএম আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। তবে, আরও তদন্ত চালিয়ে যেতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভক্তর দেখানো জায়গা থেকে বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও টাকা তোলার জন্য যে চিঠি ব্যাঙ্কে জমা পড়েছিল, তা সিট বাজেয়াপ্ত করেছে। তাতে যে সই ও হাতের লেখা রয়েছে, তা মিলিয়ে দেখার জন্য ভক্তর নমুনা সংগ্রহ করেছে সিট। তাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট মেলার পর তথ্য মিললে আরও তদন্ত করা হতে পারে বলে সিটের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে। সিট সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর বর্ধমান শহরের স্টেশনবাজার এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানত প্রকল্পে জমা রাখা ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৭০ টাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে তুলে নেওয়া হয়। টাকা তোলার জন্য ব্যাঙ্কে চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে রেজিস্ট্রার ও ফিনান্স অফিসারের মতো সই ছিল। অপর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার চেষ্টা বিফল হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া নিয়ে তৎকালীন রেজিস্ট্রার সুজিতকুমার চৌধুরী বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে থানা। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। সিআইডিও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। সিআইডি ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। তাতে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সহ তিন অফিসারের নাম দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার সিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিআইডি ভক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তদন্তে নেমে এ বছরের ১২ আগস্ট গুজরাত থেকে ভক্তকে গ্রেফতার করে সিট। তাকে নিয়ে তার বাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কয়েক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভক্তর ব্যবহার করা কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক ও বিভিন্ন নথি সিট বাজেয়াপ্ত করে। তার অফিস থেকেই রেজিস্ট্রার ও ফিনান্স অফিসারের নকল সিল বাজেয়াপ্ত করা হয়।

Advertisement

চার্জশিটে সিট জানিয়েছে, ব্যাঙ্কের অফিসারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা তুলে তা ঠিকাদার সুব্রত দাসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেখান থেকে টাকা বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সফার করা হয়। দীর্ঘদিন ফিনান্স বিভাগে কাজ করার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী আমানতের বিষয়টি নখদর্পণে ছিল ভক্তর। সে-ই গোপনে আলমারি থেকে আমানতের নথিপত্র হাতায়। তারপর টাকা তোলে। ব্যাঙ্কের অফিসারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুব্রত অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ট্রান্সফার করা হয়। চার্জশিটে ভক্ত ও সুব্রত ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী শেখ এনামুল হক, ভক্তর স্ত্রী নিভা মণ্ডল, ব্যাঙ্কের শাখা প্রবন্ধক পিনাকি বিশ্বাস, ব্যাঙ্কের দুই অফিসার রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও সায়ন্তন রায়, প্রণব কুমার ঘোষ, মনজিৎ সেন ও সঞ্জিৎ দে-র নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪১৯, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪১৩ ও ১২০বি ধারায় চার্জ আনা হয়েছে। মামলায় রেজিস্ট্রার, ফিনান্স অফিসার সহ ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ