নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গণবিবাহ আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ঘিরে শুক্রবার সরগরম থাকল বর্ধমান শহর। শীতের দুপুরে খেলা দেখার জন্য যেমন মাঠে ভিড় উপচে পড়ল, তেমনই গোধূলি বেলায় কাঞ্চননগরে বিয়ের আসরও থাকল জমজমাট। এদিন দুপুরে শহরের মিউনিসিপ্যাল বয়েজ স্কুল মাঠে ডার্বির সূচনালগ্নেই কনেপক্ষ রওনা দেয় কাঞ্চননগরের দিকে। কনেদের সঙ্গে যাচ্ছিলেন গণবিবাহের উদ্যোক্তা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস। তখন কিছুটা দূরে ডার্বি দেখতে আসা বিশেষ অতিথিদের বরণ করছিলেন যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার। কে কাকে টক্কর দিল, তা নিয়ে সময় যত গড়াতে থাকল, ততই শহরজুড়ে চর্চা বাড়তে থাকল। রাজনৈতিক অঙ্কে কে কাকে টক্কর দিল, সেটা সময় বলবে। তবে, শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এধরনের প্রতিযোগিতা চলতেই থাকুক। শহরের বাসিন্দারা তা তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন।
ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের প্রাক্তনীরা ডার্বিতে অংশ গ্রহণ করেন। টাইব্রেকারে মোহনবাগান জয়ী হয়। দুপুর থেকে স্কুলের মাঠে দর্শকরা ভিড় করেন। মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ অন্যান্যরা। গণবিবাহের অনুষ্ঠানেও চাঁদের হাট বসেছিল। এদিন ১২৫জন কনের বিয়ে দেওয়া হয়। সমস্ত ধর্মের বর এবং কনেরা ছিলেন। ভিনরাজ্য থেকেও পাত্রপাত্রীরা এসেছিলেন। প্রথা মেনে আলাদা আলাদাভাবে তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বর এবং কনেযাত্রীদের জন্য ছিল খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। সানাইয়ের সুরের পাশাপাশি খোলের বোলে বিয়ের আসরের পরিবেশ ছিল অন্যরকম। উলু আর শঙ্খধ্বনি তো ছিলই। কঙ্কালেশ্বরী মন্দির চত্বর যেন হয়ে উঠেছিল বৃন্দাবন। সেখানে হাজির ছিলেন জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।১২ বছর ধরে কাঞ্চননগরে গণবিবাহের আসর বসেছে। কিন্তু এবার চর্চাটা ছিল অন্যরকম। কারণ এদিনই শহরের প্রাণকেন্দ্রের ডার্বির আয়োজন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এটা মোটেও কাকতলীয় নয়। এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক জমি দখলের লড়াই। কয়েক দিন আগে জেলা পার্টি অফিসে এই লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক এবং যুব সভাপতি বাকযুদ্ধে জড়িয়ে যান। তারপর থেকেই শহরবাসী দেখতে থাকে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’। এদিনের দু’টি আলাদা আলাদা কর্মসূচিকে অবশ্য তাঁরা দু’জন লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ। রাসবিহারী বলেন, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। শহরের বাসিন্দাদের ডার্বি জমিয়ে উপভোগ করেছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক বলেন, ১২ বছর ধরে গণবিবাহর আয়োজন করেছি। অনেক আগে থেকেই দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছিল। এবারও বহু বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটাই আমার বড় পাওনা।-নিজস্ব চিত্র