Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ তিনপাহাড় মেমু টানা চারদিন বন্ধ থাকবে, ভোগান্তির আশঙ্কা

বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের যাত্রীদের কাছে বর্ধমান-তিনপাহাড় মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ তিনপাহাড় মেমু টানা চারদিন বন্ধ থাকবে, ভোগান্তির আশঙ্কা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের যাত্রীদের কাছে বর্ধমান-তিনপাহাড় মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাকুড় স্টেশনে ইয়ার্ড পুনর্গঠন ও প্রি নন ইন্টারলকিং ও নন ইন্টারলকিং কাজের জন্য ২৭ নভেম্বর থেকে টানা চারদিন বাতিল থাকছে এই ট্রেনটি। বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানিয়েছে পূর্ব রেল। এরফলে চাতরা, মুরারই ও রাজগ্রাম স্টেশন এলাকার সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হবেন। কারণ, এসব এলাকায় যাত্রীদের এই লোকাল ট্রেনই ভরসা। 

Advertisement

বর্ধমান থেকে সকালের দিকে রামপুরহাট, নলহাটি, চাতরা, মুরারই, রাজগ্রাম আসার প্রথম লোকাল ট্রেন তিনপাহাড় মেমু। এই ট্রেনে বহু যাত্রী অ঩ফিসে যান। অনেকে দিনমজুরি ও ব্যবসার কাজে এই ট্রেনটি ব্যবহার করেন। বহু ছাত্রছাত্রী এই ট্রেনে প্রাইভেট পড়তে বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সকালের দিকে প্রথম লোকাল হওয়ায় মূলত অল্প দুরত্বের যাত্রীদের কাছে এই ট্রেন ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠেছে।  এই ট্রেনে ব্যাপক ভিড় হওয়ায় মাঝেমধ্যেই অনেকে উঠতে পারেন না। ভিড়ে উঠতে গিয়ে অনেকে পড়েও যান। গুরুত্ব বুঝে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনটির কোচ আট থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হয়। যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় এই ট্রেনটি টানা চারদিন বাতিল ঘোষণা করায় ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন এই শাখার যাত্রীরা। নিত্যযাত্রী রামেশ্বর মণ্ডল বলেন, এই ট্রেনে সরকারি, সেবরকারি চাকুরজীবী ছাড়াও শ্রমিকরা যাতায়াত করেন। এই ট্রেনটি বাতিল করা ঠিক হয়নি। 
মুরারই যাত্রী সংঘের পক্ষে জগন্নাথ দত্ত বলেন, বর্ধমান-মালদহ টাউন প্যাসেঞ্জার, রাজগীর প্যাসেঞ্জার করোনা কাল থেকেই বন্ধ। এই রুটের একটাই প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সেটা চারদিন বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের খুবই অসুবিধে হবে। গাড়ি ভাড়া করে মানুষকে রামপুরহাট মেডিক্যাল সহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে। তিনি বলেন, বিত্তশালীদের জন্য বন্দেভারত চলবে। আর সাধারণ মানুষের ট্রেন বলে এটা বন্ধ থাকবে? রেল যদি যাত্রীদের প্রতি আন্তরিক হয় তাহলে আর দেরি না করে বর্ধমান-মালদহ লোকাল ফের চালু করা উচিত। 
শুধু তিনপাহাড় মেমু নয়, ওই চারদিন হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস, কলকাতা হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, কর্মভূমি এক্সপ্রেস রুট পরিবর্তন করে ব্যান্ডেল, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপ ধাম হয়ে চলাচল করবে। এছাড়া বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জামালপুর- রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার সাহেবগঞ্জে যাত্রা শেষ করবে। রামপুরহাট-গয়া প্যাসেঞ্জার সাহেবগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করবে। সেকারণে ওই চারদিন যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও রেলের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, যাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই কাজ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ