Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান: বেতন বাড়ানোর জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি, চাকরিচ্যুত ঠিকাকর্মী

চার বছর ধরে বেতন বাড়েনি। এমন অবস্থায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে রেলমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এক ঠিকাকর্মী। ভেবেছিলেন এবার হয়তো পরিত্রাণ মিলবে!

বর্ধমান: বেতন বাড়ানোর জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি, চাকরিচ্যুত ঠিকাকর্মী
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চার বছর ধরে বেতন বাড়েনি। এমন অবস্থায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে রেলমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এক ঠিকাকর্মী। ভেবেছিলেন এবার হয়তো পরিত্রাণ মিলবে! কিন্তু তার ফল হল উল্টো। চিঠিটি মন্ত্রকে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার সংস্থাকে চিঠি করা হয়। তারপরই কোপ পরে ওই রেলকর্মীর উপর। তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর ধরে চাকরি হারিয়ে নাজেহাল অবস্থা বর্ধমানের লক্ষ্মীপুরমাঠের প্রদীপকুমার সাউয়ের। চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে তিনি ফের রেলমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান। তাতেও লাভ হয়নি। এই অবস্থায় কীভাবে সংসার চলবে, সেই ভাবনায় তাঁর রাতের ঘুম উবে গিয়েছে।

Advertisement

প্রদীপবাবু এক ঠিকাদার সংস্থার অধীনে রেলের এগজিকিউটিভ হাউসকিপারের কাজ করতেন। ট্রেনের কামরা ঠিকমতো পরিষ্কার হচ্ছে কি না, সেটা দেখাই ছিল তাঁর কাজ। ২০১৩ সাল থেকে তিনি কাজ করছেন। প্রদীপবাবু বলেন, ভেবেছিলাম রেলমন্ত্রীকে চিঠি লেখার পর সমস্যার সমাধান হবে। সেটা তো হলই না, উল্টে আমার বিপদ হয়ে গেল। বেতন বাড়ানোর দাবিতে চিঠি পাঠানোর পর ওই ঠিকাদার সংস্থা কিছুটা সমস্যায় পড়ে। কে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে, সেটা তারা জানতে চায়। পরে ওরা আমার নাম জানতে পারে। তার কয়েকদিন পর আমাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি জানিয়ে আবার রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখি। কিন্তু, কোনও উত্তর পাইনি। ওই সংস্থার কাছে অনেক অনুরোধ করেছিলাম। সেসব তারা কর্ণপাত করেনি।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কাজের দেখভালের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ট্রেনের কামরা বা প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ ওই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই করা হয়। বেতন নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে। সময়ে বেতন না দেওয়ার অভিযোগও হামেশাই ওঠে। কয়েকদিন আগে অস্থায়ী কর্মীরা প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কারের কাজ বন্ধ করে দেন। মেমারি সহ একাধিক স্টেশনে দীর্ঘদিন আবর্জনা পরিষ্কার হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, রেলের উচিত ঠিকাদার সংস্থাগুলির বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা। তারা ঠিক সময়ে টাকা পেয়ে যায়। কিন্তু, কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দেয় না। প্রতিবাদ করলে চাকরি চলে যায়।
বর্ধমানের বাসিন্দা ওই যুবক বলেন, হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় আমার পোস্টিং ছিল। নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করতে হতো। অথচ বছরের পর বছর বেতন বাড়েনি। স্থানীয় আধিকারিকদের জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। সেই কারণেই রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে পুরো বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু, এমন পরিণতি হবে বলে ভাবতে পারিনি। আমার মতো আরও অনেকেই সমস্যায় রয়েছেন। রেলমন্ত্রী যদি পাশে না দাঁড়ান, তাহলে কার উপর ভরসা করব?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ